
নয়াদিল্লি: এক সপ্তাহেই উধাও হয়ে ৭০ হাজার কোটি টাকা। ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধে ক্ষয় ধরেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার শেয়ার পোর্টফোলিওতে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার ঠিক একদিন আগে LIC-র শেয়ার পোর্টফোলিও ছিল ১৪.৮৮ ট্রিলিয়ন বা ১৪ লক্ষ কোটির অধিক। যা ৯ মার্চ বা সোমবার পর্যন্ত নেমে ১৪.১৭ ট্রিলিয়নে ঠেকেছে। অর্থাৎ যুদ্ধ আবহে ৭০ হাজার ১০৫ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে LIC-র।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম বিজ়নেস স্ট্যান্ডার্ডসের তথ্য অনুযায়ী, যদি এক বছরের হিসাব দেখা যায়, তা হলে বলা যেতে পারে গত এক বছরে LIC-র পোর্টফোলিওর দিক থেকে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বা ১ ট্রিলিয়ন। কিন্তু একটা যুদ্ধে LIC-এর এত বড় ধাক্কা খাওয়ার কারণ কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই উত্তর পেতে তাকাতে হবে LIC-র পোর্টফোলিও। বর্তমানে এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা যে যে শেয়ারে বিনিয়োগ করে রেখেছে, চলতি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই প্রায় প্রতিটি শেয়ার ভয়ঙ্কর ভাবে মার খেয়েছে। দেখে নিন, LIC-কে পিছনে ঠেলে দেওয়া প্রথমসারির ১০ শেয়ার —
| সংস্থার নাম | LIC-র হোল্ডিং | মোট ক্ষতি |
| স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া | LIC-র হোল্ডিং ৯.২৩ শতাংশ | ৮,৭৩০.৩৮ কোটি টাকা |
| লারসেন অ্যান্ড টুব্রো | LIC-র হোল্ডিং ১২.৬৯ শতাংশ | ৭,৬০৮.৯৯ কোটি টাকা |
| আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক | LIC-র হোল্ডিং ৫.৯২ শতাংশ | ৩,৪৯৮.৫৯ কোটি টাকা |
| এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক | LIC-র হোল্ডিং ৪.৭৭ শতাংশ | ৩,০৬৪.২৭ কোটি টাকা |
| হিন্দুস্তান ইউনিলিভার | LIC-র হোল্ডিং ৬.৭০ শতাংশ | ২,২৭০.৯৭ কোটি টাকা |
| ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন | LIC-র হোল্ডিং ৬.১১ শতাংশ | ২,২৬২.২৯ কোটি টাকা |
| টাটা স্টিল | LIC-র হোল্ডিং ৭.২২ শতাংশ | ১,৯১৯.২৭ কোটি টাকা |
| মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া | LIC-র হোল্ডিং ৪.৩০ শতাংশ | ১,৮৪৫.৩১ কোটি টাকা |
| মহিন্দ্রা অ্যান্ড মহিন্দ্রা | LIC-র হোল্ডিং ৬.৩৯ শতাংশ | ১,৬৬২.৫৭ কোটি টাকা |
| আদানি পোর্টস অ্যান্ড সেজ় | LIC-র হোল্ডিং ৬.৭৯ শতাংশ | ১,৫৫৪.৯৩ কোটি টাকা |
উল্লেখ্য়, সোমবার ভয়াবহ রক্তপাতের সাক্ষী থেকেছে দালাল স্ট্রিট। প্রি-ট্রেডিং সেশন থেকেই ধাপে ধাপে নামতে শুরু করে দিয়েছিল প্রতিটি সূচক। আর বেল বাজতেই এক ধাক্কায় ভারতীয় শেয়ার বাজার উস্কে দিল ‘Black Monday’-র স্মৃতি। ট্রেডিং শুরুর মিনিট ৩০-এর মধ্যে সেনসেক্স পড়েছে ২ হাজার ৩০০ পয়েন্টের বেশি। কয়েক মাস পর ২.৯ শতাংশ পড়ে নিফটির সূচক নেমে এসেছে ২৩ হাজার ৭৪৩ পয়েন্টের নীচে। তবে মঙ্গলে পরিস্থিতি অনেকটাই ঠান্ডা। ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ শেষের’ ইঙ্গিতকে আশার আলো হিসাবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। ক্ষতে অনেকটাই হয়েছে প্রলেপ।