
নয়া দিল্লি: করদাতাদের জন্য বড় আপডেট। আয়কর দফতর (Income Tax Department) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের (Assessment Year 2026-27) জন্য ITR-3 ফর্মের (ITR-3 Form) এক্সেল ইউটিলিটি বের করেছে। একইসঙ্গে ই-ফাইলিং পোর্টালে (E-Filing Portal) অনলাইনে আয়কর রিটার্নের সুবিধাও চালু করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। ফলে যোগ্য করদাতারা এখন থেকেই ITR-3 ফর্ম ব্যবহার করে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। আয়কর রিটার্নের (ITR Filing) ক্ষেত্রে আইটিআর-৩ ছাড়া আইটিআর-১, আইটিআর-২ ফর্ম থাকে। সেক্ষেত্রে অনেকেই হয়তো জানেন না, কোন ফর্মটি কাদের জন্য মূলত প্রযোজ্য। সেক্ষেত্রে, অনেকেই ভুল ফর্ম ফিল-আপ করে ফেলেন। আজ জেনে নেওয়া যাক, ITR-3 ফর্ম কাদের জন্য প্রযোজ্য আর রিটার্নে কোনও ভুল হলে করণীয় কী?
ITR-3 মূলত সেইসব ব্যক্তিদের জন্য, যাঁদের আয়ের উৎস তাঁদের পেশা বা ব্যবসা থেকে আসে। এছাড়া, ফ্রিল্যান্সার, কনসালট্যান্ট, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, ট্রেডার বা একক মালিকানাধীন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এই ফর্ম পূরণ করতে পারেন। যেসব করদাতার মোট আয় ৫০ লক্ষ টাকার বেশি এবং যাঁরা নিয়মিত হিসাবপত্র বজায় রাখেন, তাঁদের জন্য ITR-3 প্রযোজ্য।
যাঁদের ব্যবসা বা পেশাগত আয় নেই, তাঁরাও এই ফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন না। সহজ ভাষায়, যাঁরা ITR-1, ITR-2 অথবা ITR-4 জমা দেওয়ার যোগ্য, তাঁরা ITR-3 ফাইল করতে পারবেন না।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ITR-3 ফর্মে ট্রেডিং সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এবার ট্রেডিংয়ের টার্নওভার ও আয় আলাদা করে দেখাতে হবে। আগে এগুলি সাধারণ ব্যবসায়িক আয়ের অংশ হিসেবে দেখানো যেত।
এছাড়া ইন্ট্রাডে ট্রেডিং এবং অন্যান্য ট্রেডিং সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। করদাতাদের ব্রোকার স্টেটমেন্ট এবং হিসাবপত্রের সঙ্গে রিটার্নে দেওয়া তথ্যের মিল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যেসব করদাতার অ্যাকাউন্ট অডিটের প্রয়োজন নেই, তাঁদের জন্য ITR-3 জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ অগস্ট। অন্যদিকে, যাঁদের ক্ষেত্রে অডিট বাধ্যতামূলক, তাঁদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে।
আয়কর দফতরের মতে, ভুল ITR ফর্ম জমা দিলে সেটিকে আয়কর আইনের ১৩৯(৯) ধারার অধীনে করদাতাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধনের নোটিস পাঠানো হবে।
ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত রিটার্ন প্রসেস করা হবে না। ফলে ট্যাক্স রিফান্ড পেতে দেরি হতে পারে। এমনকি আয় সংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে যাচাইও করা হতে পারে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ত্রুটি সংশোধন না করলে রিটার্ন বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। অর্থাৎ, রিটার্ন জমাই দেওয়া হয়নি বলে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি আয় কম দেখানো বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সুদ ও জরিমানার মুখেও পড়তে হতে পারে করদাতাদের।