
নয়া দিল্লি: এলপিজি গ্রাহকদের জন্য বড় খবর। কেন্দ্রীয় সরকার এবার দিচ্ছে টাকা রিফান্ড (Money Refund)। এলপিজি সিলিন্ডার সারেন্ডার (LPG Cylinder Surrender) অর্থাৎ এলপিজি সিলিন্ডার কানেকশন ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। কী বলছে সরকার, জানুন গোটা প্রক্রিয়া।
ভারতে অধিকাংশ মানুষই এলপিজি কানেকশন ব্যবহার করেন। অধিকাংশের কাছেই রয়েছে ডবল কানেকশন। অর্থাৎ তাদের কাছে দুটি করে সিলিন্ডার থাকে। যখন কেউ নতুন কানেকশন নেন, তখন সিলিন্ডার ও রেগুলেটর কেনার জন্য সরকার সিকিউরিটি ডিপোজিট বাবদ টাকা নেয়। ডবল সিলিন্ডার হলে তার সিকিউরিটি ডিপোজিটও বেড়ে যায়। বহু মানুষই এটিকে এলপিজি কানেকশনের ফি বলে মনে করেন। তবে এটি আসলে গ্যাস কোম্পানির কাছে রাখা থাকে। কোনও কারণে এলপিজি কানেকশন ছেড়ে দিলে বা কোনও সরঞ্জাম ফেরত দিলে, সেই সিকিউরিটি ডিপোজিটও ফেরত পাওয়া যায়।
গ্রাহকরা যখন এক শহর থেকে অন্য শহরে যান বা অন্য কোনও কারণে এলপিজি কানেকশন ছেড়ে দেন, তখন এই ডিপোজিট ফেরত নেন না। এতে অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির কাছেই সিকিউরিটি ডিপোজিটের টাকা পড়ে থাকে। গ্রাহকরা চাইলেই নিজেদের পরিচয়ের প্রমাণ দিয়ে এবং হলফনামা জমা দিয়ে সিলিন্ডার পিছু সিকিউরিটি ডিপোজিট ফেরত পেতে পারেন।
তেল বিপনন সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোট সিলিন্ডার ফেরত দিলে, সিলিন্ডার পিছু ৫০০ টাকা করে ফেরত পাওয়া যাবে। যদি কোনও গ্রাহক রেগুলেটরও ফেরত দেন, তাহলে তার সাপেক্ষেও সিকিউরিটি ডিপোজিটের একটা অংশ ফেরত পাওয়া যায়।
এক্ষেত্রে গ্রাহকরা ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কানেকশন নেওয়ার জন্য যত টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দেন, সেই টাকাই ফেরত পান। সাধারণত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের কানেকশন নেওয়ার ক্ষেত্রে ২২০০ টাকা জমা দিতে হয়। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ২০০০ টাকা লাগে এলপিজি কানেকশনের জন্য। অর্থাৎ এলপিজি কানেকশন ছেড়ে দিলে, এই টাকাই ফেরত পাবেন গ্রাহকরা। রেগুলেটরের জন্য আলাদা সিকিউরিটি ডিপোজিট হয়। এর জন্য ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা জমা দিতে হয়। এই টাকাও ফেরত পাওয়া যায়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র: গ্যাস সিলিন্ডার কানেকশন ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল সাবস্ক্রিপশন ভাউচার। এলপিজি সংযোগ নেওয়ার সময় এই কাগজটি দেওয়া হয়। এটি কানেকশন সারেন্ডারের সময়ও প্রয়োজন পড়ে।
ডোমেস্টিক গ্যাস কনজিউমার কার্ড (DGCC): গ্যাস বুকিং বা নীল রঙের ছোট ডায়েরিটি এটি। কানেকশন সারেন্ডারের সময় এটিও দরকার পড়ে।
যন্ত্রপাতি: গ্যাস সিলিন্ডার এবং প্রেসার রেগুলেটর।
ব্যাঙ্ক ডিটেইলস: যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত চান, তার বিবরণ দিতে হয়। এর জন্য ক্যান্সেল চেক বা পাসবুকের কপি জমা দিলেই হয়।
১. প্রথমে বর্তমান এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরের (Gas Agency) সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
২. এরপর নিজের কাছে থাকা সিলিন্ডার এবং রেগুলেটর এজেন্সিতে জমা দিতে হবে। চাইলে এজেন্সির লোকজন বাড়ি থেকেও সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারে, যার জন্য সামান্য ফি কাটা যেতে পারে।
৩. টার্মিনেশন ভাউচার (TV): এজেন্সি কাগজপত্র ও যন্ত্রপাতি যাচাই করে একটি ‘টার্মিনেশন ভাউচার’ ইস্যু করবে।
৪. টাকা রিফান্ড: টার্মিনেশন ভাউচার ইস্যু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে জমা করা সিকিউরিটি ডিপোজিটের পুরো টাকা নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে।