
শমিতা সাহা, সেবি শংসায়িত বিশেষজ্ঞ
বর্তমান সময় বড়ই অনিশ্চিত। ভবিষ্যতের কথা ভাবতেই হয়। আর তার জন্য সঞ্চয়ও প্রয়োজন। আগে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমেই ভরসা থাকত ফিক্সড ডিপোজিটে। এখন সেটাই বদলে মিউচুয়াল ফান্ডে ভরসা তৈরি হয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বহু বিনিয়োগকারীর অর্থ একত্রিত করে তহবিল (Fund) গঠন করা হয় এবং পেশাদার ফান্ড ম্যানেজারের মাধ্যমে সেই অর্থ বিনিয়োগ করা হয় নানা আর্থিক সম্পদ শ্রেণিতে। যেমন শেয়ার (Equity), বন্ড (Bond), সরকারি সিকিউরিটি এবং মানি মার্কেট ইন্সট্রুমেন্টে।
যদি শেয়ার বাজারে স্কিম বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে তাকে বলা হয় ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড। যদি সরকারি বা বেসরকারি ঋণপত্র বা বন্ড স্কিমে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে তাকে বলা হয় ডেব্ট ফান্ড (Debt Fund)। যদি দুই ধরণের শ্রেণিতেই বিনিয়োগ থাকে, তাহলে সেই স্কিমকে বলা হয় হাইব্রিড ফান্ড (Hybrid Fund)।
প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমের একটি নির্দিষ্ট বিনিয়োগ লক্ষ্য (Investment Objective) থাকে। সেই লক্ষ্য অনুযায়ী ফান্ড ম্যানেজার বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন সম্পদ শ্রেণিতে বিনিয়োগ করেন, যাতে দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত রিটার্ন পাওয়া যায়। ভারতে মিউচুয়াল ফান্ডগুলি সেবি (SEBI) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, ফলে বিনিয়োগকারীরা একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ পান।
আপনার আর্থিক লক্ষ্য, বিনিয়োগের সময়সীমা এবং ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতার ভিত্তিতে ফান্ড নির্বাচন করুন। ফান্ড নির্বাচন করার সময় জেনে নিন ফান্ডের উদ্দেশ্য, ফান্ড ম্যানেজারের অভিজ্ঞতা, ফান্ডের দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্স, ঝুঁকির মাত্রা, ব্যয় অনুপাত (Expense Ratio) ইত্যাদি। লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফান্ড বেছে নেওয়া হলে ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট অথবা এএমএফআই (AMFI) অন্তর্ভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড পোর্টালের মাধ্যমে অথবা মিউচুয়াল ফান্ড হাউসের নিজস্ব পোর্টালে কেওয়াইসি (KYC) পূর্ণ করে অনায়াসেই বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। প্রয়োজন হলে সেবি (SEBI) সংশায়িত ইনভেস্টমেন্ট এডভাইসেরের পরামর্শ নিন।
এনএভি (NAV) যে কোনও মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমের তহবিলের প্রতি ইউনিটের মূল্য। যদি মিউচুয়াল ফান্ডকে একটি বড় “যৌথ তহবিল” হিসেবে ভাবেন, তাহলে NAV হল সেই তহবিলের প্রতিটি অংশ বা ইউনিটের খরচ ব্যাতিত বর্তমান মূল্য। উদাহরণ হিসাবে ধরুন, যদি ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগের পরিমাণ হয়, সেই দিনে সেই ফান্ডের NAV যদি ৫০ হয়, তাহলে বিনিয়োগকারী ২০০ ইউনিট পাবেন।
পরবর্তীকালে বিনিয়োগকারী ফান্ড থেকে টাকা উইথড্র করতে চান, সেই দিনের NAV যদি ৮০ টাকা হয়, তাহলে (৩০ x ২০০) মোট ৬,০০০ টাকা লাভ করবেন।
NAV শেয়ার বাজারের উত্থান পতনের সঙ্গে মিলিয়ে উপর-নীচ হতে পারে। তবে বাজারের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামার ভিত্তিতে বারবার ফান্ডের পারফরম্যান্স বিচার করা উচিত নয়। ফান্ড ম্যানেজার যৌথ তহবিলের অর্থ বিভিন্ন বিনিয়োগের সুযোগে কাজে লাগান। এই বিনিয়োগ থেকে যে আয় সৃষ্টি হয়, তা মূলত চারটি উৎস থেকে আসতে পারে যেমন
ভারতে মূলধনী লাভ করযুক্ত (Capital Gains Tax ) যদি ১২ মাসের কম সময় শেয়ার বাজারে সম্পদ বিক্রি হয়, তাহলে লাভের উপরে শর্ট টার্ম ক্যাপিটাল গেইন কর বসবে, যা বর্তমানে ২০ শতাংশ এবং যদি ১২ মাসের ঊর্ধে সম্পদ বিক্রি করা হয়, তাহলে সেটি লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্সের অন্তর্ভুক্ত হবে। বিনিয়োগ যদি নির্দিষ্ট আয় মূলক স্কিম যেমন ডেবট ফান্ডে হয়, তাহলে কর বসবে ইনকাম ট্যাক্স স্ল্যাব অনুযায়ী। আর যদি শেয়ার বাজারের মাধ্যমে হয় যেমন সরাসরি ইকুইটি বা ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড বিক্রির মাধ্যমে, তাহলে ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে।