Mutual Fund Risks: ‘মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ ঝুঁকি সাপেক্ষ’- এই কথা তো রোজ শোনেন, এই ঝুঁকি কী, সেটা জানেন?

Market Risk in Mutual Funds: যে কোনও আর্থিক পণ্য  বাজারের ওঠা নামার উপরে নির্ভরশীল। যে কোনও বিশ্ব স্তরীয় বা দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতির কারণে বাজারগত ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। যেমন কোভিড মহামারি বা ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ, দেশের মুদ্রাস্ফীতি, সাময়িক অস্থির পরিস্থিতি আর্থিক বাজারে আলোড়নের সৃষ্টি করে।

Mutual Fund Risks: মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ ঝুঁকি সাপেক্ষ- এই কথা তো রোজ শোনেন, এই ঝুঁকি কী, সেটা জানেন?
ফাইল চিত্র।Image Credit source: Pixabay

|

Jun 19, 2026 | 12:09 PM

শমিতা সাহা, সেবি শংসাপ্রাপ্ত বাজার বিশেষজ্ঞ

“মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ, যোজনার সঙ্গে সম্বন্ধিত নথিপত্র মনোযোগ সহকারে পড়ে নেবেন”- খুব চেনা এই লাইন খবরের কাগজে, ইউটিউব চ্যানেলে বা যেকোনও অডিয়ো-ভিজ্যুয়াল বিনিয়োগের বিজ্ঞাপনে শুনে বা দেখে থাকবেন। এই “বাজার গত ঝুঁকি” ঠিক কী, সেই সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

সাধারণ অর্থে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি মানে লাভের বদলে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা বা আর্থিক ক্ষতি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা। আর্থিক বাজারে বিনিয়োগ করতে গেলে কী কী প্রকারের সম্মুখীন হতে হয়, তা জেনে নিন:

১. বাজারগত ঝুঁকি (Market Risk): যে কোনও আর্থিক পণ্য  বাজারের ওঠা নামার উপরে নির্ভরশীল। যে কোনও বিশ্ব স্তরীয় বা দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতির কারণে বাজারগত ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। যেমন কোভিড মহামারি বা ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ, দেশের মুদ্রাস্ফীতি, সাময়িক অস্থির পরিস্থিতি আর্থিক বাজারে আলোড়নের সৃষ্টি করে। যার ফলে শেয়ার বাজারে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

২. মুদ্রাস্ফীতি (Inflation Risk): মুদ্রাস্ফীতির ফলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যায়, বিনিয়োগের অর্থের প্রকৃত মূল্য কমে যায়। সেই কারণেই বিনিয়োগের সময় বুঝে নেওয়া প্রয়োজন যে বিনিয়োগের হার মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে যেন বেশি থাকে, নাহলে বিনিয়োগের মূল্য কমতে থাকবে।

৩. তারল্য ঝুঁকি (Liquidity Risk): যখন কোনও আর্থিক পণ্যে যথেষ্ট ক্রেতা না থাকার ফলে বিনিয়োগ নগদে রূপান্তর করা কঠিন হয়ে যায় , সেটাকে তারল্য ঝুঁকি বলা হয়। যদি হঠাৎ শোনা যায় যে কোনও কোম্পানিতে জালিয়াতি হয়েছে, সেই কোম্পানির শেয়ার হু হু করে পড়ে যায় এবং শেয়ার বাজারে তাদের শেয়ার কেনার আগ্রহ থাকে না। তখন তারল্য ঝুঁকির পরিস্থিতি দাঁড়ায়।

৪. ব্যবসায়িক ঝুঁকি (Business Risk): যে কোনও ব্যবসা পরিচালনা, তার পণ্যের চাহিদা , প্রতিকূল পরিস্থিতির ফলে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অথবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই কোম্পানির প্রস্তুত করা ঋণ পত্র, বন্ড, বা সেই কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়াই হল ব্যবসায়িক ঝুঁকি।

৫. সুদের হারের ঝুঁকি (Interest Rate Risk): বাজারের সুদের হারের পরিবর্তনের কারণে আপনার বিনিয়োগের মূল্য কমে যাওয়ার সম্ভাবনাকে ইন্টারেস্ট রেট রিস্ক বলা হয়। এটি মূলত নির্দিষ্ট আয়ের সিকিউরিটিজ (Fixed Income Bonds) এবং লোনের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, কারণ সুদের হার এবং বন্ডের দামের মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকে।

৬. মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকি (Foreign Exchange Risk): যখন কোনও বিনিয়োগকারী বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগ করেন বা বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন হওয়া সম্পদে বিনিয়োগ করেন, তখন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের (এক্সচেঞ্জ রেট) ওঠানামার কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। এই ঝুঁকিকে মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকি বলা হয়।

৭. ঋণ ঝুঁকি (Credit Risk) : বিভিন্ন কোম্পানি বন্ড বা ঋণপত্র ইসু করে বিনিয়োগকারীর মূলধনের উপরে সুদ দেয়। যদি কোম্পানি যথেষ্ট মুনাফা না হওয়ার কারণে ঋণের কিস্তি বা ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে সেই ঝুঁকিকে বলা হয় ঋণ ঝুঁকি।

ঝুঁকি সম্পর্কে সবকিছু জেনেও ঝুঁকি নেওয়া কিন্তু প্রয়োজনীয়, কারণ যেখানে ঝুঁকি বেশি, সেখানে লাভ বা মুনাফার সম্ভাবনাও বেশি। কাজেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার (risk management) মাধ্যমে ঝুঁকির প্রকার, পরিমাপ বুঝে আর পরিমিত রেখে ঝুঁকি নিতে হবে।

Follow Us