
নয়া দিল্লি: আর মাত্র দুইদিন বাকি। তারপরই আয়কর রিটার্ন (Income Tex Return) জমা করার ডেডলাইন শেষ হয়ে যাবে। ৩১ জুলাই আইটিআর (ITR) জমা করার শেষ তারিখ। যারা এখনও আইটিআর জমা করেননি, তাদের হাতে আর ৪৮ ঘণ্টা সময় আছে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মূল্যায়নের জন্য কর জমা করার প্রক্রিয়াই হল আয়কর রিটার্ন বা আইটিআর ফাইল। বর্তমানে ই-ভেরিফিকেশন সহ আইটিআর দাখিল করা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ লেট ফি এড়াতে চান, তাহলে তাদের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আইটিআর ফাইল করতে হবে। এরপরে লেট ফাইন হতে পারে।
এ বছরও সরকারের আইটিআর ফাইল করার সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম। করদাতারা যদি আইটিআর দাখিল করতে আরও দেরি করেন, তবে শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োর কারণে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। আর আইটিআর ফাইলে ভবিষ্যতে আয়কর বিভাগের পক্ষ থেকে নোটিস আসতে পারে।
আয়কর বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪.৩৭ কোটিরও বেশি আয়কর রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, করদাতারা বার্ষিক আয়কর বিধি অনুসরণ করে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আইটিআর জমা করছেন। আইটিআর জমা করার শেষ তারিখের আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকায়, যারা এখনও রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের অবিলম্বে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন এক্সপার্টরা।
আয়কর বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, সমস্ত নথি প্রস্তুত থাকলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে বা তার থেকে কম সময়ে আইটিআর জমা দেওয়া যায়। অনলাইন ট্যাক্স ফাইলিং এবং ই-ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে, বেতন, ব্যাঙ্কিং বিবরণ, ছাড়, অন্যান্য বিনিয়োগ, কর প্রদানের মতো সমস্ত তথ্য সঠিক আছে কিনা তা যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও আয়ের ভিত্তিতে সঠিক আইটিআর ফর্ম বেছে নেওয়া এবং আগে থেকে পূরণ করা বিবরণগুলি যাচাই করে নিলে, ভুল এড়ানো যায়। এতে অনেকটা সময়ও সাশ্রয় হয়।
নবরাজ গ্লোবাল অ্যাডভাইজারস-র ট্যাক্স-ইনভেস্টমেন্টস এক্সপার্ট নিশান্ত শঙ্কর পরামর্শ দিয়েছেন যে করদাতাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়। তাদের ফর্ম ১৬, বার্ষিক তথ্য বিবরণী (এআইএস), ব্যাঙ্কের বিবরণ এবং বিনিয়োগের প্রমাণের মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রস্তুত রাখা উচিত। যদি সমস্ত বিবরণ আগে থেকে যাচাই করা হয় এবং সঠিক কর ব্যবস্থা বেছে নেওয়া হয়, তবে ই-ফাইলিং পোর্টালের মাধ্যমে মাত্র ১০ মিনিটে নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিল করা যেতে পারে।
এই বিষয়ে কলকাতার এক আয়কর এক্সপার্ট আইভি দাশগুপ্ত বলেন, “বর্তমানে আইটিআর-১ ফর্ম অনেকটাই আগে থেকে পূরণ করা বা প্রি-ফিলড থাকে। বার্ষিক তথ্য বা অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি সংগ্রহ করা হয়। এই সুবিধা সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তা সে আগে পুরনো বা নতুন কর ব্যবস্থায় আয়কর জমা দিক বা না দিক।”