
নয়া দিল্লি: লকডাউন (Lockdown)। শব্দটা মনে করায় করোনা মহামারীর ভয়াবহ দিনগুলির কথা। ঘরে বন্দীদশা, স্কুল, কলেজ, অফিস বন্ধ, রাস্তাঘাট শুনশান। আবারও সেই একই পরিস্থিতি আসতে চলেছে। তবে, এই লকডাউনের সঙ্গে করোনার লকডাউন সম্পূর্ণ আলাদা। এই লকডাউন আসতে চলেছে এবার এআই প্রযুক্তিতে (Chatgpt Lockdown)। এটা একটা বিশেষ মোড (Lockdown Mode)। আর এই মোড নিয়ে আসা হচ্ছে চ্যাটজিপিটিতে (Chatgpt)।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নয়া লকডাউন মোড চালু করেছে ওপেনএআই (OpenAI)। এই ফিচারটি বিশেষভাবে কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। মূলত, যাঁরা সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করেন এবং ডেটা ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে চান, তাঁদের জন্য এই লকডাউন মোড নিয়ে আসা হয়েছে। এই মোডটি চালু করলে ইন্টারনেট এবং বাহ্যিক পরিষেবাগুলোতে চ্যাটজিপিটি-র অ্যাকসেস উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে যাবে।
ওপেনএআই-এর মতে, সংবেদনশীল তথ্য যাতে ভুল ব্যক্তির হাতে না পৌঁছয়,সেই উদ্দেশ্যেই লকডাউন মোড চালু করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জগতে প্রম্পট ইনজেকশন একটি বড় সমস্যা। এই পদ্ধতিতে সাইবার প্রতারকরা ওয়েবসাইট, ই-মেল, নথি বা অন্যান্য কনটেন্টকে ব্যবহার করে এআই মডেলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে এর ফলে চ্যাটবট ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে। তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি যাতে কমে যায়, তার জন্য নতুন লকডাউন মোড তৈরি করা হয়েছে। তবে সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ফিচার প্রম্পট ইনজেকশনকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পারে না। কিন্তু সাইবার প্রতারকদের কাছে তথ্য পৌঁছে যাওয়ার শেষ ধাপটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করে দেয়। তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটি ফ্রি, গো, প্লাস, প্রো এবং সেলফ-সার্ভ বিজনেস অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীদের জন্য ধাপে ধাপে লকডাউন মোড চালু করা হচ্ছে। ফিচারটি উপলব্ধ হলে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই এটি সক্রিয় করতে পারবেন। লকডাউন মোড চালু করতে প্রথমে ChatGPT অ্যাপ বা ওয়েবসাইট খুলতে হবে। এরপর সেটিংসে গিয়ে সিকিউরিটি বিভাগে যেতে হবে। সেখানে অ্যাডভান্স সিকিউরিটি অপশনের মধ্যে লকডাউন দেখা যাবে। ব্যবহারকারীরা মাত্র এক ক্লিকেই এই ফিচারটি চালু করতে পারবেন।
সংস্থার দাবি, এই ফিচার সবার জন্য অপরিহার্য নয়। তবে যাঁরা সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করেন, যেমন বিভিন্ন পেশাদার, গবেষক, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, তাঁদের জন্য এটি অতিরিক্ত নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে তথ্য ফাঁস বা সাইবার হামলার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।