Personal Loan: পার্সোনাল লোন নিয়ে আর EMI শোধ না করলে কি পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে?

Personal Loan Rules: ঋণ খেলাপ হলে, সবথেকে অস্বস্তি ও লজ্জার বিষয় হয় রিকভারি এজেন্টদের হেনস্থা। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, রিকভারি এজেন্টরা টাকা দাবি করার জন্য ফোন করতে পারে, এমনকী  বাড়িতে বা অফিসেও আসতে পারে।

Personal Loan: পার্সোনাল লোন নিয়ে আর EMI শোধ না করলে কি পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে?
প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: Pexels

|

Jul 30, 2026 | 7:27 PM

নয়া দিল্লি: আজকাল পার্সোনাল লোন (Personal Loan) বা ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া কয়েক মিনিটের বিষয়। মোবাইলে ব্যাঙ্কের অ্যাপ থেকে ঋণ নেওয়া যায় সহজেই। সব ঠিক থাকলে, আবেদন করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে যায়। তবে আসল দুশ্চিন্তা শুরু হয় যখন কোনও কারণে কেউ চাকরি হারান কিংবা ব্যবসা ডুবে যায় বা অন্য কোনও জরুরি প্রয়োজনের সম্মুখীন হন। তখন ইএমআই (EMI) বাকি পড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় ভয় যেটা থাকে, তা হল- ঋণ পরিশোধ না করলে বা ইএমআই না দিলে পুলিশ কি বাড়িতে চলে আসতে পারে?  পুলিশ কি জেলেও পাঠাতে পারে?

এর সহজ এবং স্পষ্ট উত্তর হল, না। শুধুমাত্র ঋণ পরিশোধে করতে না পারা কোনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। যদি কোনও ব্যক্তির উদ্দেশ্য সৎ থাকে, কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে ইএমআই দিতে অক্ষম হন, তবে সেই কারণে তাঁকে জেলে পাঠানো যাবে না।

ইএমআই শোধ করতে ব্যর্থ হলে ব্যাঙ্ক কী করে?

যদি ধারাবাহিকভাবে কেউ  নিজের ইএমআই (EMI) পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে ব্যাঙ্ক সঙ্গে সঙ্গে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেয় না। ব্যাঙ্কের তরফে প্রথমে ফোন এবং মেসেজের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। এরপরে আইনি নোটিস পাঠানো হয়।

যদি দীর্ঘ সময় ধরে টাকা অপরিশোধিত থাকে, তবে ব্যাঙ্ক আপনার লোন অ্যাকাউন্টটিকে “এনপিএ” (Non-Performing Asset) হিসেবে গণ্য করে। এটি আপনার সিবিল (CIBIL) স্কোরের উপর প্রভাব ফেলে। খারাপ সিবিল স্কোরের অর্থ হল, ভবিষ্যতে নতুন লোন বা ক্রেডিট কার্ড পেতে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এরপর ব্যাঙ্ক আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে এবং আদালতের মাধ্যমে টাকা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। যদি ঋণের প্রেক্ষিতে কেউ কিছু বন্ধক রেখে থাকেন, তবে সেটি নিয়েও ব্যবস্থা নিতে পারে ব্যাঙ্ক।

কোন কোন ক্ষেত্রে জেল হওয়ার ঝুঁকি থাকে?

নিরুপায় অবস্থায় ইএমআই পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়া কোনও অপরাধ নয়। শুধুমাত্র প্রতারণার ক্ষেত্রেই কারাদণ্ড হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ঋণ নেন বা তাঁর চাকরি বা আয় সম্পর্কে ব্যাঙ্কের কাছে মিথ্যা বলেন, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান, তাহলে ব্যাঙ্ক সরাসরি পুলিশের কাছে  এফআইআর দায়ের করতে পারে। তখন ফৌজদারি মামলা হয়।

রিকোভারি  এজেন্টদের হুমকি –

ঋণ খেলাপ হলে, সবথেকে অস্বস্তি ও লজ্জার বিষয় হয় রিকভারি এজেন্টদের হেনস্থা। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, রিকভারি এজেন্টরা টাকা দাবি করার জন্য ফোন করতে পারে, এমনকী  বাড়িতে বা অফিসেও আসতে পারে। তবে কোনও অবস্থাতেই আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা, গালিগালাজ করা বা হুমকি দেওয়ার অনুমতি নেই। রিকোভারি এজেন্টরা মাঝ রাতে বা অসময়ে ফোন করে হয়রানি করতে পারে না। যদি কোনও রিকোভারি এজেন্ট সীমা অতিক্রম করেন বা অপমান করার চেষ্টা করেন, তাহলে নির্দ্বিধায় পুলিশ বা আরবিআই-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

আর্থিক সমস্যা থাকলে কী করা উচিত?

অনেকে ভয়ে প্রায়ই ব্যাঙ্কের ফোন এড়িয়ে চলেন। এটা একটা বড় ভুল। এমনটা করলে সমস্যা কমার বদলে বরং বেড়ে যায়। যদি মনে হয় যে আপনি আর ইএমআই দিতে পারবেন না, তাহলে সরাসরি ব্যাঙ্কে যান। ব্যাঙ্কের কাছে  আসল সমস্যাটি খোলাখুলিভাবে ব্যাখ্যা করুন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক সাহায্য করে। প্রয়োজনে তারা ইএমআই কমাতে, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়াতে বা কয়েক মাসের জন্য মোরাটোরিয়াম বা ছাড় দিতে পারে। কখনও কখনও এককালীন নিষ্পত্তির সুবিধাও পাওয়া যায়।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us