
নয়া দিল্লি: আপনি যদি ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপ ‘ফোনপে’ (PhonePe) ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খবর। ডিজিটাল লেনদেনের এই জনপ্রিয় অ্যাপ তাদের ওয়ালেট পলিসিতে বড়সড় বদল এনেছে। এবার থেকে দীর্ঘদিন ওয়ালেট ব্যবহার না করে ফেলে রাখলে, ব্যবহারকারীদের গুনতে হবে ‘ইনঅ্যাক্টিভিটি মেইনটেন্যান্স ফি’।
ফোনপে-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের আপডেট অনুযায়ী, কোনও ব্যবহারকারী যদি টানা ১ বছর বা ৩৬৫ দিন তাঁর ফোনপে ওয়ালেট (PhonePe Wallet) দিয়ে কোনও রকম আর্থিক লেনদেন না করেন, তবে সেই ওয়ালেটটিকে ‘নিষ্ক্রিয়’ বা ইন-অ্যাক্টিভ (Inactive) বলে ধরা হবে। তখন এই নিষ্ক্রিয় ওয়ালেটের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি ত্রৈমাসিকে ১০০ টাকা জিএসটি সহ চার্জ কাটা হবে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্ল্যাটফর্মের ক্রমাগত আপডেট, ত্রুটি সংশোধন এবং ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার জন্য যে খরচ হচ্ছে, তা সামাল দিতেই এই ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ফোনপে অ্যাপে লগ-ইন করা, ইউপিআই (UPI) লেনদেন করা বা অ্যাপের অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পেমেন্ট করার সঙ্গে ওয়ালেট সচল থাকার কোনও সম্পর্ক নেই। ওয়ালেট সচল রাখতে সরাসরি ওয়ালেট থেকেই লেনদেন করতে হবে।
টাকা কাটার আগে ফোনপে ব্যবহারকারীদের সতর্ক হওয়ার সুযোগ দেবে।
১৫ দিনের নোটিস: ওয়ালেট নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে ব্যবহারকারীকে টাকা কাটার ১৫ দিন আগে নোটিস দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে কোম্পানির তরফ থেকে একাধিকবার নোটিফিকেশন পাঠানো হবে এবং ওয়ালেটটি কীভাবে আবার সচল করা যাবে, তার উপায়ও বলে দেওয়া হবে।
সচল করার সুযোগ: এই ১৫ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে ব্যবহারকারী যদি ওয়ালেট দিয়ে অন্তত একটি আর্থিক লেনদেন করে নেন, তবে ওয়ালেটটি আবার ‘অ্যাক্টিভ’ হয়ে যাবে এবং কোনও চার্জ কাটা হবে না।
নেগেটিভ ব্যালেন্স হবে না: নোটিফিকেশন পাঠানোর পরও যদি গ্রাহক তার ওয়ালেট সক্রিয় না করেন, তবে নোটিসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, ওয়ালেটে থাকা টাকা থেকে এই ফি কেটে নেওয়া হবে। যদি ওয়ালেটের ব্যালেন্স ১০০ টাকার কম থাকে, তবে পুরো টাকাই কেটে নেওয়া হবে এবং ব্যালেন্স ‘শূন্য’ (Zero) হয়ে যাবে। তবে এই ব্যালেন্স কখনই মাইনাস বা নেগেটিভ হবে না। অর্থাৎ পুরো টাকা কেটে নিলে, তারপর আর মাইনাস ব্যালেন্স হবে না।
ইতিমধ্যেই বহু ব্যবহারকারী জানিয়েছেন যে তাঁরা ফোনপে থেকে এই সংক্রান্ত নোটিফিকেশন পেয়েছেন। এই চার্জ এড়াতে চাইলে-
এর আগে ২০২১ সালে ‘মোবিকুইক’ (Mobikwik) তাদের নিষ্ক্রিয় ওয়ালেটের জন্য ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত চার্জ চালু করেছিল। আবার ‘এয়ারটেল পেমেন্টস ব্যাঙ্ক’-ও (Airtel Payments Bank) একটা সময় নিষ্ক্রিয় ওয়ালেটের ওপর মেইনটেন্যান্স ফি বসিয়েছিল, যা পরে বার্ষিক চার্জে রূপান্তরিত হয়। এবার সেই পথেই হাঁটল ফোনপে-ও।