
নয়া দিল্লি: বাসে-অটোয় নিত্যদিন ঝামেলা লেগে যাচ্ছে যাত্রীদের। ছেঁড়া নোট নিতে নারাজ সবাই। ১০ টাকা, ২০ টাকার নোটের অমিল বাজারে। যা পাওয়া যাচ্ছে, তার অবস্থাও শোচনীয়। কাগজের নোটের এই দুর্দশা দেখে এবার বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India)।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া ফের একবার চিন্তাভাবনা শুরু করছে পলিমার ব্যাঙ্কনোট (Polymer Bank Note) নিয়ে। শীঘ্রই পাইলট প্রোগ্রামের অধীনে পলিমার নোট আনা হতে পারে। প্রিন্টিংয়ের খরচ বৃদ্ধি ও নোটের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপের কথা ভাবছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
ফার্স্ট পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি পটনা ও মুম্বইতে আরবিআইয়ের যে বোর্ড মিটিং হয়েছিল, তাতে পলিমার বা প্লাস্টিক নোট চালু করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট যেহেতু অনেক বেশি টেকসই, তাই এই নোট চালু করা অনেকটাই লাভজনক।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নোট ছাপানোর খরচ ছিল ৬৩৭২.৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় অনেকটা বেশি। ২০২৩-২৪ সালে নোট ছাপাতে আরবিআইয়ের খরচ হয়েছিল ৫১০১.৪ কোটি টাকা।
পলিমার ব্যাঙ্কনোট তৈরি হয় বাই-অ্যাক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রপেলিন ফিল্ম দিয়ে তৈরি। মেটামেরিক ইঙ্ক দিয়ে ছাপানো হয়। জল লাগলে বা ভাঁজ করলে এই নোট ছেড়ে না। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম পলিমার নোট চালু করে। বর্তমানে কানাডা, ব্রিটেন, নিউজিল্য়ান্ড, ভিয়েতনাম, রোমানিয়া, ব্রুনোই, নিকারগুয়া, পাপুয়া নিউগিনি, মলদ্বীপে পলিমার ব্যাঙ্ক নোট ব্যবহার করা হয়।
কাগজের ব্যাঙ্কনোটে কটন বা তুলা ব্যবহার হয় মূলত। পাশাপাশি জল, বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা দিনের শেষে পরিবেশের ক্ষতি করে। তার তুলনায় পলিমার নোট অনেক বেশি টেকসই। কাগজের নোটের তুলনায় আড়াই থেকে চার গুণ বেশি টেকে এই নোট।
প্রসঙ্গত, এর আগেও আরবিআই পলিমার নোট আনার চিন্তাভাবনা করেছিল। ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে ১০০ কোটি ১০ টাকার পলিমার নোট ছাপানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। ২০২৫-১৬ সালেও আরবিআই মাইসোর, সিমলা, জয়পুর, কোচি ও ভুবনেশ্বরে ১০ টাকার পলিমার নোট চালু করার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু পরে তাও বাতিল হয়ে যায়।