
নয়া দিল্লি: আপনার ব্যক্তিগত ঋণ বা গৃহ ঋণে সুদের হার নিয়ে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এমনটাই প্রস্তাবনা দিয়েছে। এই প্রস্তাবনায় ঋণের ফ্লোটিং রেটে বড়সড় পরিবর্তন হতে পারে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার এই প্রস্তাবনা এখনও খসড়া স্তরে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে। যদি প্রস্তাব গৃহীত হয়, তবে ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হবে। এতে কি আপনার হোম লোনের ইএমআই (EMI) এখনই বেড়ে বা কমে যাবে? এর উত্তর হল, না। তবে ভবিষ্যতে আরবিআই (RBI) রেপো রেট কমানো বা বাড়ানোর পর আপনার ঋণের সুদের হার যেভাবে পরিবর্তিত হবে, তাতে বড় বদল আসতে পারে।
আরবিআই-এর প্রস্তাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে সুদের হার রিসেটের সময়সীমা। বর্তমানে অনেক ফ্লোটিং রেটের ঋণের সুদের হার বছরে একবার করে পরিবর্তন হয়। ফলে আরবিআই রেপো রেট কমালেও, তার সুবিধা ঋণগ্রহীতার কাছে পৌঁছতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ফ্লোটিং রেটের ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে রিসেট করতে হবে। ফলে রেপো-রেটের সঙ্গে যুক্ত হোম লোনের ক্ষেত্রে আরবিআই I সুদের হার কমালে, তার সুবিধা দ্রুত পাওয়া যেতে পারে। তবে এর উল্টো দিকও রয়েছে। আরবিআই রেপো রেট বাড়ালে সুদের হার এবং ইএমআই-ও দ্রুত বাড়তে পারে।
প্রস্তাবিত রিসেট ব্যবস্থা মূলত ফ্লোটিং রেটের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। খুচরো ঋণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিশেষ করে হোম লোনে বেশি পড়তে পারে। বেশিরভাগ পার্সোনাল লোন এবং গাড়ির ঋণ সাধারণত ফিক্সড রেটের হয়ে থাকে। তাই এই নতুন নিয়মের কারণে চলতি পার্সোনাল লোনের ইএমআই (EMI) হঠাৎ বদলে যাবে না।
তবে নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা আসতে পারে। ঋণের চুক্তিতে স্পষ্ট করে জানাতে হবে-
এছাড়া প্রস্তাবিত নিয়মে বলা হয়েছে, সুদের হারের নন-ক্রেডিট কম্পোনেন্ট অব স্প্রেড (non-credit component of spread) তিন বছর পর্যন্ত পরিবর্তন করা যাবে না। ফলে ঋণের প্রকৃত খরচ বোঝা সহজ হতে পারে।
আপনার যদি ইতিমধ্যেই ফ্লোটিং রেটে হোম লোন (Existing Home Loan) থাকে, তাহলে এখনই কিছু করার প্রয়োজন নেই। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, পুরনো ঋণগুলিকে নতুন ব্যবস্থায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া ১ এপ্রিল ২০২৯-এর মধ্যে সম্পন্ন করার কথা। তবে এই পরিবর্তনের জন্য ঋণগ্রহীতার সম্মতি প্রয়োজন হবে। এর জন্য কোনও ফি নেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র নতুন কাঠামোয় স্থানান্তর করার কারণে ব্যাঙ্ক বা ঋণদাতা সুদের হার বাড়াতেও পারবে না।