
প্রায় ৫ বছর পর রেপো রেট কমাল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এতদিন আরবিআইয়ের রেপো রেট ছিল ৬.৫০ শতাংশ। আজ ২৫ বেসিক পয়েন্ট কমে রেপো রেট হল ৬.২৫ শতাংশ। আর রেপো রেট কমার ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ থেকে চাকুরিজীবীরা। যে সব মানুষের হোম লোন বা গাড়ির লোন চলছে কিছুটা সুরাহা হতে পারে তাদেরও।
সদ্যই বাজেটে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করযোগ্য আয়ে কর ছাড় দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এতে বেশ অনেকটা স্বস্তিতে মধ্যবিত্ত। আর তার একসপ্তাহের মধ্যেই রেপো রেট কমাল ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
রেপো রেট কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত বা চাকুরিজীবীদের এই স্বস্তি আরও অনেকটা বাড়ল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রেপো রেট কমে যাওয়ায় পার্সোনাল লোন বা ক্রেডিট কার্ডের যে সুদের হার সেখানেও কিছু পরিবর্তন আসবে। আর পার্সোনাল লোন বা ক্রেডিট কার্ডে সুদের হার কমলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে মধ্যবিত্ত মানুষদের।
অনেক মানুষেরই নতুন ফোন বা ল্যাপটপ কিম্বা টিভি, ফ্রিজ কেনার ইচ্ছা থাকে। আর সেই শখ পূরণ করতে তাঁরা ক্রেডিট কার্ডের কথা বা কনজিউমার ডিউরেবেল লোনের কথাই ভাবেন। আর এই ধরণের লোনে সুদের হার বেশ চড়া হয়। রেপো রেট কমায় সুদের হার কমলে কমবে ইএমআইও। আর ইএমআই-এর অঙ্কটা কিছুটা কমলেও মধ্যবিত্তের জন্য সেটা একটা বড় স্বস্তি।
আর এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন বেশ খানিকটা হলেও চাঙ্গা হবে বাজার। মধ্যবিত্তের হাতে টাকা থাকায় ও লোনের সুদ কমায় তারা কেনাকাটার পিছনে বেশ কিছু অর্থ ব্যায় করবে। আর এতে আখেরে ঘুরে দাঁড়াবে ভারতের অর্থনীতি। এর প্রভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাড়তে পারে ভারতের জিডিপিও।
প্রসঙ্গত, যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া বাকি ব্যাঙ্ক-কে ঋণ দেয়, তাকে রেপো রেট বলে। আর যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেয়, তাকে রিভার্স রেপো রেট বলে। শেষবার ২০২০ সালের মে মাসে রেপো রেট বৃদ্ধি করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। এরপরে ১১টি মনিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকেই রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।