
নয়া দিল্লি: সিম কার্ড নিয়ে জালিয়াতি-প্রতারণা ক্রমশ বাড়ছে। কখনও ভুয়ো নথি দিয়ে সিম কার্ড তুলে অপরাধমূলক কাজকর্ম করা হচ্ছে, কখনও আবার অন্যের সিম ব্যবহার করে অপরাধ ঘটানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার সরকার সিম কার্ড নিয়ে কড়া অবস্থান কেন্দ্রের। এক ব্যক্তির নামে ক’টা মোবাইল কানেকশন বা সিম কার্ড রাখা যাবে, তা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত।
আগামী ২৪ অগস্ট থেকে সিম কার্ড নিয়ে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম। টেলিকম অপারেটররা কোনও ব্যক্তি বা আবেদনকারীকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা পর্যন্ত সিমকার্ড দেবে। যাদের সেই সংখ্যা পার হয়ে যায়, তাদের নামে আর নতুন করে সিম কার্ড দেওয়া হবে না।
ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন গত ১৭ অগস্ট একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। ওই নির্দেশিকায় সার্ভিস প্রোভাইডার-দের বলা হয়েছে যে গ্রাহকরা নির্দিষ্ট সীমার বেশি সিম কার্ড নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করার জন্য টেকনিক্যাল ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ করতে। কোনও ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট সীমার বেশি সিম কার্ড নেন, তাহলে টেলিকম কোম্পানি তাদের জানাবে যে তাদের নামে আর নতুন করে সিম কার্ড ইস্যু করা সম্ভব নয়।
সিম কার্ডের লিমিট বা সীমা পরিবর্তন করা হয়নি। আগেই নিয়ম ছিল যে এক ব্যক্তি সর্বাধিক নয়টি কানেকশন রাখতে পারেন নিজের নামে। প্রায় এক দশক ধরেই এই নিয়ম বর্তমান। টেলিকম অপারেটর ও টেলিকম সার্কেলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর। জম্মু-কাশ্মীর, অসম ও উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এই সিমের নির্দিষ্ট সীমা হল ৬। এর বেশি সিম একজন ব্যক্তি নিজের নামে তুলতে পারবেন না।
এবার কেন্দ্রীয় সরকার নিশ্চিত করছে যে এই সিমের লিমিট বা সীমা যেন মেনে চলা হয়। অর্থাৎ টেলিকম কোম্পানিগুলিকে এবার থেকে কোনও গ্রাহককে সিম কার্ড দেওয়ার আগে দেখতে হবে তাঁর নামে আগে কতগুলি কানেকশন রয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট সীমা পার করে ফেলেছেন, তাদের আর নতুন সিম কার্ড দেওয়া হবে না।
গ্রাহকদেরও নতুন সিম কানেকশন নেওয়ার নিয়ম আছে। গ্রাহকদের কাস্টমার অ্যাপ্লিকেশন ফর্মে উল্লেখ করতে হবে যে কোন কোন ফোন নম্বরগুলি তাদের নামে রেজিস্টার রয়েছে। সেখানে অন্য অপারেটর বা টেলিকম সার্ভিসের সিম-ও উল্লেখ করতে হবে।
শীঘ্রই ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন (DoT) ফোটো বেসড আইডেন্টিফিকেশন ফিচার চালু করতে চলেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে যে একজনের নামে কতগুলি সিম আছে।