
নয়া দিল্লি: টাটা গ্রুপ নিয়ে বড় খবর। ফের কামব্যাক করছেন এন চন্দ্রশেখরন। আজ, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) টাটা সন্স বোর্ড নতুন করে পাঁচ বছরের জন্য এগজেকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করল এন চন্দ্রশেখরনকে। এদিকে, গত মাসেই এন চন্দ্রশেখরন জানিয়েছিলেন, তিনি আর এই দায়িত্বে থাকবেন না। তাঁর সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করেই নতুন করে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হল টাটা সন্সের।
জানা গিয়েছে, টাটা সন্সের বোর্ডে যখন আজ ভোটাভুটি হয়, তখন বোর্ডের সকল সদস্যরা এন চন্দ্রশেখরনকে টাটা সন্সের এগজেকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে পুনরায় নিয়োগের সপক্ষে ভোট দেন। একমাত্র রতন টাটার সৎ ভাই, নোয়েল টাটা তাঁর বিপক্ষে ভোট দেন। বর্তমানে টাটা গ্রুপের দায়িত্বে রয়েছেন নোয়েল টাটা।
টাটা সন্সের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ক’দিন আগেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া টাটা সন্সের কোর ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি হিসেবে তাদের রেজিস্ট্রেশন সমর্পণের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী হোল্ডিং কোম্পানিটির সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে।
এন চন্দ্রশেখরনের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। কিন্তু তার আগেই তিনি গত ১২ অগস্ট ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন। জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি আর টাটা সন্সের এগজেকিউটিভ চেয়ারম্যান পদে আর থাকবেন না। ইস্তফার কারণও ব্যাখ্য়া করেননি তিনি। তবে সংস্থার অন্দরেই জোর জল্পনা শুরু হয় যে নোয়েল টাটার সঙ্গে বিরোধের কারণেই টাটা সন্সের দায়িত্ব ছাড়তে চাইছেন তিনি।
৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের টাটা গ্রুপের মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হল টাটা সন্স। টিসিএস থেকে শুরু করে টাটা মোটরস, এয়ার ইন্ডিয়া-সহ ৩০টি সংস্থার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে টাটা সন্স। আবার টাটা সন্সের ৬৬ শতাংশ অংশীদার হল টাটা ট্রাস্ট। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এন চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয়েছিল। সংস্থার অন্দরে গুঞ্জন, নোয়েল টাটার আপত্তির কারণেই সেই সময় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়নি। স্যর দোরাবজি টাটা ট্রাস্টের তরফে জানানো হয় যে এন চন্দ্রশেখরনের উত্তরসূরী খোঁজার কাজ শুরু হবে।
মতপার্থক্যের মধ্যে অন্যতম ছিল পরিচালন ব্যবস্থা, মূলধন বণ্টন, গোষ্ঠীর কিছু নতুন ব্যবসার পারফরম্যান্স এবং টাটা সন্সের ভবিষ্যৎ মালিকানা কাঠামো-সহ একাধিক বিষয়। টাটা সন্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হয়েই থাকবে কি না, সেটিও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।