
নয়া দিল্লি: আপনার বার্ষিক রোজগার আয়করের সীমার নীচে, তাই আইটিআর ফাইল করেন না? তাহলে কিন্তু সমূহ বিপদ। অনেকেই জমা টাকা ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট (FD) বা সেভিংস অ্যাকাউন্টে রাখেন। সেখান থেকে পাওয়া সুদেও আয় হয়। তবে অনেক সময় দেখা যায় যে কোনও ব্যক্তির মোট বার্ষিক আয় আয়করের সীমার নীচে থাকলেও, ব্যাঙ্ক সুদের উপর টিডিএস (Tax Deducted at Source) কেটে নেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে যাতে এক টাকাও টিডিএস (TDS) কাটা না হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে আয়কর দফতর। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কর দেওয়ার দায় না থাকলেও, আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা না দিলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা টাকার সুদের উপর টিডিএস কাটা আটকাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একটি স্ব-ঘোষণাপত্র (Self Declaration Form) জমা দিতে হয়।
এতদিন পর্যন্ত এই উদ্দেশ্যে দু’ধরনের ফর্ম ব্যবহার করা হত।
আয়কর আইন, ২০২৫ অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফর্ম 15G এবং ফর্ম 15H বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে চালু হয়েছে একটি নতুন একটাই ফর্ম-ফর্ম 121।
করদাতাদের আর বয়স অনুযায়ী আলাদা ফর্ম বেছে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। যদি কোনও ব্যক্তির করদায় শূন্য থাকে, তবে তিনি শুধুমাত্র ফর্ম 121 জমা দিলেই ব্যাঙ্ক, EPFO, মিউচুয়াল ফান্ড বা পোস্ট অফিসে সুদের উপর TDS কাটা এড়াতে পারবেন।
অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাব বা নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা না দেওয়ার কারণে ব্যাঙ্ক TDS কেটে নেয়। তবে এতে চিন্তিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কেটে নেওয়া টাকা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়ার সবচেয়ে সহজ এবং নিরাপদ উপায় হল আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিল করা। করদাতারা প্রথমে ফর্ম 26AS বা অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট (Annual Information Statement)-এ গিয়ে কত TDS কাটা হয়েছে তা যাচাই করতে পারেন। এরপর ITR দাখিলের সময় সুদের আয়ের সঠিক তথ্য উল্লেখ করে কাটা TDS-এর ক্রেডিট দাবি করতে হবে।
চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী যদি করদায় শূন্য হয়, তাহলে অতিরিক্ত কাটা পুরো টাকাই আয়কর দফতর সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠাবে।
অনেকেই মনে করেন, আয়করের সীমায় না থাকলে, আলাদাভাবে আর আইটিআর(ITR) জমা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই ধারণা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষতি (Business Loss) বা মূলধনী ক্ষতি (Capital Loss) হয়ে থাকলে, রিটার্ন জমা না দিলে সেই ক্ষতি ভবিষ্যতের জন্য বহন (Carry Forward) করা যাবে না। তাই করদায় না থাকলেও, সময়মতো ITR দাখিল করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।