
নয়া দিল্লি: টেলিভিশন (Television) দর্শকদের জন্য বড় খবর। কোনও সিরিয়াল বা অনুষ্ঠান দেখার ফাঁকে বিরতির সময় আরও বাড়তে পারে। এর আগে সর্বোচ্চ ১২ মিনিটের বিজ্ঞাপন (Television Ad) দেখানোর নিয়ম ছিল। তবে সেই ২০ বছরের পুরনো নিয়ম এবার বাতিল করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের দাবি, গত কয়েক বছরে টেলিভিশন সম্প্রচার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যানেল (TV Channel) ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্তের পর টিভি চ্যানেলগুলি বিজ্ঞাপন দেখানোর ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা পেতে পারে। অর্থাৎ বিজ্ঞাপন ও বিজ্ঞাপনের সময় আরও বাড়বে। ফলে টিভি চ্যানেলগুলির ব্যবসাও বৃদ্ধি পেতে পারে।
২০০৬ সালে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস রুলস, ১৯৯৪-এর অধীনে ১২ মিনিট বিজ্ঞাপনের সীমা চালু করা হয়েছিল। তথ্য ও সম্প্রচারক মন্ত্রকের বক্তব্য, ২০০৬ সালে দেশে মাত্র ৬২টি টিভি চ্যানেল ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ৯০০-রও বেশি হয়েছে। পাশাপাশি কেবল টিভির সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন হয়েছে। দর্শকদের জন্য ডিটিএইচ, কেবল টিভি, এইচআইটিএস এবং আইপিটিভির মতো একাধিক প্ল্যাটফর্মও তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রের যুক্তি, বর্তমানে টেলিভিশন সম্প্রচার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রতিযোগিতা রয়েছে। দর্শকদের কাছে আগের তুলনায় কয়েকশো চ্যানেলের বিকল্প রয়েছে। একইসঙ্গে, পেইড হোক বা ফ্রি-টু-এয়ার…বেশিরভাগ টিভি চ্যানেলই বিজ্ঞাপনের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। সরকারের দাবি, প্রতি ঘণ্টায় ১২ মিনিট বিজ্ঞাপন টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মিডিয়ার মধ্যে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছিল না। কারণ, ডিজিটাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের সময় নিয়ে এই ধরনের কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। তাই ব্যবসা সহজ করা এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই পুরনো নিয়ম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এখনই নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না। কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস রুলস, ১৯৯৪-এ সংশোধন এনে তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই ১২ মিনিটের বিজ্ঞাপন সীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এল, যখন টিভি বিজ্ঞাপনের সময়সীমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিতর্ক চলছিল। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্ট টেলিকম নিয়ন্ত্রক TRAI-এর পরিষেবার মান সংক্রান্ত নিয়ম বহাল রেখেছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ঘণ্টায় সর্বাধিক ১২ মিনিট বিজ্ঞাপন দেখানোর সীমা ছিল। এর মধ্যে ১০ মিনিট বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন এবং ২ মিনিট চ্যানেলের নিজস্ব প্রচারের জন্য নির্ধারিত ছিল।
এই নিয়ে প্রায় ১৩ বছর ধরে একাধিক মামলা আদালতে ঝুলে ছিল। দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার বিষয়েও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলি ভাবনাচিন্তা করছিল। তবে কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তের পর TRAI-এর সংশ্লিষ্ট পরিষেবার মান সংক্রান্ত নিয়মগুলির উপর ঠিক কী প্রভাব পড়বে, তা এখনও আলাদাভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।