
নয়া দিল্লি: বর্তমানে ডিজিটাল নির্ভর জীবনে সমস্ত কিছুই ইন্টারনেট দিয়েই হয়। টুকটাক খরচ থেকে বড় লেনদেন- অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমেই সব কিছু হয়। তবে এবার ইউপিআই-তে আসতে চলেছে বিরাট পরিবর্তন। এবার ইউপিআই লেনদেনে (UPI Payment) লাগবে চার্জ।
ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই(UPI) ট্রানজাকশন বাড়াতে বিগত ছয় বছর ধরে কোনও পেমেন্ট ফি নেওয়া হচ্ছিল না। এবার কেন্দ্রীয় সরকার ফের একবার মার্চেন্ট চার্জ (Merchant Charge) ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে ইউপিআই পেমেন্টে।
দেশে ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করার জন্য, ২০২০ সালে ইউপিআই -এর উপর মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ছয় বছর পর, কেন্দ্রীয় সরকার এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করছে। দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউপিআই-তে ফের এমডিআর চালু করতে চলেছে। তবে এই চার্জ সবার জন্য প্রযোজ্য হবে না। কেবল বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই লেনদেনের উপর এমডিআর পুনরায় চালু করা হতে পারে। ছোটখাটো ব্যবসা এবং এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির লেনদেনে এই চার্জ লাগবে না। তবে এই প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং এটি নিয়ে উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা চলছে।
সূত্রের খবর, সরকার বার্ষিক এক কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা বা তার বেশি টার্নওভারের ব্যবসায়ীদের উপর এমডিআর (MDR) বসানোর কথা বিবেচনা করছে। এই ফি শুধুমাত্র ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের ইউপিআই (UPI) লেনদেনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। এর ফলে ছোট দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ গ্রাহকদের উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে না।
মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) হল সেই ফি যা ব্যবসায়ীরা ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীদের দিয়ে থাকে, যখনই কোনও গ্রাহক ডিজিটাল পেমেন্ট করেন। ডিজিটাল পেমেন্ট প্রক্রিয়া, পেমেন্ট পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের মতো পরিষেবাগুলির খরচ মেটানোর জন্য এই ফি ধার্য করা হয়।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে, সরকার ইউপিআই এবং রুপে ডেবিট কার্ড লেনদেনের উপর এমডিআর (MDR) শূন্য করে দেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করা এবং নগদ লেনদেনের উপর নির্ভরতা কমানো। এই সিদ্ধান্তের পর দেশে ইউপিআই-এর ব্যবহার রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যায়।
ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর তথ্য অনুসারে, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআই-এর মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি লেনদেন হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই অঙ্ক বেড়ে প্রায় ২৪২ বিলিয়ন লেনদেনে পৌঁছাবে বলেই অনুমান। একই সময়ে, ইউপিআই-এর মাধ্যমে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৭ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩১৪ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের জুন মাসেই ইউপিআই-এর মাধ্যমে ২২.৭২ বিলিয়ন লেনদেন হয়েছিল, যার মোট পরিমাণ ছিল ২৮.৯২ লক্ষ কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যানগুলি ইঙ্গিত দেয় যে ইউপিআই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে সবচেয়ে শক্তিশালী পেমেন্ট ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে।
ব্যাঙ্ক এবং ডিজিটাল পেমেন্ট কোম্পানিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছে যে এমডিআর ছাড়া এত বিপুল সংখ্যক লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ করা আর্থিকভাবে কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের সার্ভার, সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পেমেন্ট নিষ্পত্তির জন্য ক্রমাগত খরচ করতে হয়। যদিও সরকার এই খরচ মেটাতে পর্যায়ক্রমে ভর্তুকি দিয়ে আসছে, তবে দাবি উঠেছে যে প্রকৃত খরচের তুলনায় এই ভর্তুকি পর্যাপ্ত নয়। এরপরই বড় ব্যবসায়ীদের উপরে সীমিত এমডিআর (MDR) বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সরকার এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিলে, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসাই প্রভাবিত হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী:
এমডিআর হার ৫ থেকে ৭ বেসিস পয়েন্টের (০.০৫ শতাংশ থেকে ০.০৭ শতাশংশ) মধ্যে নির্ধারণ করা যেতে পারে।
এর আগে, পেমেন্টস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া-ও বড় ব্যবসায়ীদের ইউপিআই লেনদেনের উপর ০.৩০ শতাংশ এমডিআর বসানোর সুপারিশ করেছিল।
দেশে ইউপিআই ব্যবহারকারী প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীই ক্ষুদ্র ব্যবসার অন্তর্ভুক্ত। সরকার এই প্রস্তাব থেকে তাদের বাদ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। এর অর্থ মুদি দোকান, ছোট খুচরো দোকান, রাস্তার হকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আপাতত কোনও অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না।