
নয়া দিল্লি: একসময় পাড়ার ছোট ছোট দোকানগুলোই ছিল সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে সে সব দোকানেই ছুটতেন সাধারণ মানুষ। আজ দিন বদলেছে, তথাকথিত আর্থিক উন্নয়ন ঘটায় সে সব দোকান ভুলতে বসেছেন অনেকেই। দোকানের দেওয়ালে রং চটেছে, মাছি-মশা তাড়িয়েই দিন কাটে সে সব দোকানদারের। আশপাশে গজিয়ে ওঠা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, অনলাইন ডেলিভারির চক্করে ছোট ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখ দেখছেন। প্রশ্ন হল সরকারও কি তাদের ভুলতে বসেছে? বাজেট এলেই টের পাওয়া যাবে, বলছেন মুদি দোকানি শিব কুমার।
একসময় খদ্দেরের লাইন পড়ে যেত দোকানের সামনে। খাওয়ার সময়টুকু করে উঠতে পারতেন না। কিন্তু এখন, দোকানে বসে কার্যত মাছি তাড়ানোই কাজ হয়েছে শিব কুমারের। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? রুজি রোজগারেও টান পড়ছে। তাই বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছেন শিব কুমার। কৃষকদের মতো তাঁদের জন্যও যদি কিছু ভাবে সরকার। ক্রেতার সংখ্যা তো প্রায় নেই বললেই চলে। অন্তত যেন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিটুকু পাওয়া যায়, এই প্রত্যাশাই করছেন শিব কুমারের মতো ব্যবসায়ীরা।
টাকার অভাবে ব্যবসা বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে, আর বিশেষ কর্মীও নেই যাতে অনলাইন ডেলিভারি সংস্থার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ি বাড়ি জিনিস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাত জোটাবেন কীভাবে, সেটা ভেবেই রাতের ঘুম উড়েছে শিব কুমারের। বাবা-মায়ের ওষুধ বা চিকিৎসা থেকে শুরু করে সন্তানের পড়াশোনা, সব খরচই এখন তাঁর কাঁধে। তাই ১ ফেব্রুয়ারির দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। লোকসভা ভোটের আগে যদি ভাগ্য একটু সদয় হয়! ২০১৯-এ ঠিক যেভাবে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, তেমন কিছু একটা হোক, চাইছেন শিবকুমার। কম সুদে ঋণ দেওয়া হলে দোকানে জিনিস তুলতে পারবেন, এমন প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর।