
নয়া দিল্লি: হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) শুধুই একটি মেসেজিং অ্যাপ নয়। ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি, ব্যবসায়িক লেনদেন, এমনকি অনলাইন পেমেন্টের তথ্যও অনেকেই হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করেন। ফলে অনেকদিন ধরেই এই প্ল্যাটফর্মে নজর রয়েছে সাইবার প্রতারকদের। সম্প্রতি শিবসেনা নেত্রী শাইনা এনসি এবং বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্রের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেক্ষেত্রে, আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক (WhatsApp Account Hack) হওয়ার থেকে বাঁচাতে চারটে পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp Account Secure) এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ভাঙতে পারে না। বরং ফিশিং লিঙ্ক, ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার কল, সিম সোয়াপিং এবং ওটিপি বা ভেরিফিকেশন কোড হাতিয়ে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ইউজারনেম ফিচারেও বাড়তে পারে প্রতারণা। সম্প্রতি, হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম (Username) ফিচার চালুর বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইউজ়ারনেম চালুর বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। ইউজ়ারনেমের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বাড়বে ঠিকই। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রতারকেরা আসল ব্যক্তি বা সংস্থার নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়ো ইউজারনেম তৈরি করে মানুষকে সহজেই বিভ্রান্ত করতে পারে। ফলে সাইবার প্রতারণা বাড়বে।
পাসকি চালু করুন
পাসকি ব্যবহার করলে আর এসএমএস-ভিত্তিক ভেরিফিকেশনের উপর নির্ভর করতে হবে না। ফোনের ফেস আইডি (Face ID), টাচ আইডি (Touch ID) বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়েই লগ-ইন করা যাবে। যেহেতু পাসকি আপনার ডিভাইসের সঙ্গেই যুক্ত থাকে, তাই ফিশিং বা ওটিপি প্রতারণার মাধ্যমে এটি চুরি করা অনেক কঠিন।
রিকভারি ই-মেল
হোয়াটসঅ্যাপে এখন একটি ভেরিফায়েড ইমেল আইডি যুক্ত করা যায়। সিম হারিয়ে গেলে, ফোন নম্বর বদলালে বা এসএমএস না এলে এই ইমেল ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তবে, ইমেল অ্যাকাউন্টেও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখুন।
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন
টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন। অন্য কোনও ডিভাইসে আপনার নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ চালু করার সময় একটি ৬ সংখ্যার পিন (PIN) দিতে হবে। কেউ ওটিপি পেলেও ওই পিন ছাড়া আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না। তাই সহজে অনুমান করা যায় এমন পিন ব্যবহার করবেন না।
বায়োমেট্রিক লক ব্যবহার করুন
ফোন অন্য কারও হাতে চলে গেলেও যাতে হোয়াটসঅ্যাপ খুলতে না পারে, তার জন্য ফেস আই-ডি বা ফিঙ্গার প্রিন্ট চালু রাখুন। এর ফলে আপনার চ্যাট, ছবি, ডকুমেন্ট এবং ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ থাকবে।
কেন এই সেটিংস গুরুত্বপূর্ণ?
মেটা (Meta)-র মতে, প্রতারকরা অনেক সময় ভুয়ো QR কোড স্ক্যান করাতে বা অ্যাকাউন্ট-লিঙ্কিং কোড শেয়ার করতে বলে। একবার অ্যাকাউন্ট অন্য ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলে, তাঁরা গোপনে আপনার চ্যাট দেখতে পারে বা আপনার পরিচয়ে অন্যদের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে। তাই কোনও পরিচিত ব্যক্তি হঠাৎ টাকা চাইলে শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার উপর ভরসা করবেন না। ফোন করে বা অন্য কোনও মাধ্যমে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
বর্তমানে অনলাইন প্রতারণার কৌশল দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে। তবে পাস-কি, রিকোভার ইমেল, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন এবং বায়োমেট্রিক লকের মতো নিরাপত্তা ফিচার চালু করলে হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।