
কলকাতা : এই মুহূর্তে স্বপ্নের বাড়ি কেনা খুব চাপের একটি বিষয়। এর প্রধান কারণ দাম। আজকাল বাড়ি কেনা খুব ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে জমির/প্লটের দাম। এর ফলে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা। এর ফলে অনেক পরিবারেই যৌথ হোম লোন (Joint Home Loan) নেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। দুজনের আয় একসঙ্গে করে তুলনামূলক বেশি লোন পাওয়ার সুবিধে থাকে এই স্কিমে। এর পাশাপাশি ইএমআই-এর টাকা দুজনের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ করারও সুযোগ থাকে। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী, বাবা/মা-সন্তান এই লোন নিতে পারেন যদি তাঁদের যৌথ আয় থাকে।
তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। যদি লোন পরিশোধ চলাকালীন দুজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়, তাহলে কী হয়? ব্যাঙ্ক কি লোনের অঙ্ক বা টাকা মকুব করে নাকি যিনি বেঁচে আছেন, তাঁকেই সম্পূর্ণ পড়ে থাকা টাকা দিতে হয়?
নিয়ম কী বলছে?
যৌথভাবে হোম লোন পরিশোধের মেয়াদ চলাকালীন যদি একজন মারা যান, তাহলে ব্যাঙ্ক কোনও টাকা মকুব করে না। দুজনের মধ্যে যিনি বেঁচে আছেন, তাঁকেই তখন বাকি থাকা টাকা একা দিতে হয়। যদি ইএমআই দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ঋণগ্রহীতার উপর আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।
এই কারণেই হোম লোনের সঙ্গে লোন প্রটেকশন বা ইন্স্যুরেন্স নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সঙ্গীর মৃত্যু হলে বাকি থাকা ঋণের বোঝা বাকি সদস্যের উপর পড়তে পারে। বিমা করানো থাকলে পলিসির শর্ত অনুযায়ী বিমা সংস্থা মৃত্যুর পর বকেয়া ঋণের সম্পূর্ণ বা কিছু অংশ টাকা পরিশোধ করে। এক্ষেত্রে যৌথ হোম লোন নেওয়ার আগে শুধু সুদের হার বা ইএমআই-এর অঙ্ক নয়, মৃত্যুর পর ঋণের দায়, দুই ঋণগ্রহীতার ভূমিকা, বিমার কভারেজ, বিমার আর্থিক অঙ্ক – সব খতিয়ে জেনে নেওয়া উচিত। বিমা থাকলে কত পরিমাণ ঋণ কভার করা হবে, কখন পলিসিটি ব্যবহার করা যাবে ও বিমার শর্ত কী – সব খতিয়ে জেনে নেওয়া উচিত।