
নয়া দিল্লি: ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বাধ্যতামূলক থাকে কেওয়াইসি। এছাড়া অন্য কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বা বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতেও কেওয়াইসির দরকার পড়ে। এই কেওয়াইসির মাধ্যমে ব্যাঙ্ক বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। এই কেওয়াইসির কোনও তথ্য ভুল থাকলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিলে কী হয়, জানেন?
এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত যেকোনও একটি সরকারি পরিচয়পত্রের কপি বা নম্বর লাগে:
বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য:
‘কেওয়াইসি’ (KYC) ফর্মে ভুল বা ভুয়ো তথ্য দেওয়া গুরুতর অপরাধ। ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেকোনও ভুল তথ্যের কারণে গ্রাহকদের প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ব্যাঙ্কিং সেক্টর সূত্রে জানা গিয়েছে, কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে বা তথ্যে ভুল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি অর্থাৎ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাঙ্কিং সার্ভিস বা ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ব্লক করে দেওয়া হয়। এর ফলে অ্যাকাউন্টে থাকা জমা টাকা ফ্রিজ হয়ে যায় এবং সঠিক পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহক তা তোলা বা লেনদেন করতে পারেন না।
ভুল কেওয়াইসি তথ্য দিলে, আইনত এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মভঙ্গের জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানাও হতে পারে। ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য নির্ধারিত জরিমানা আরোপ করা হয়।
জাল নথি, যেমন- নকল পরিচয়পত্র, ইউটিলিটি বিল বা ভুয়া আয়ের প্রমাণপত্র জমা দিলে, ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে জালিয়াতি, পরিচয় চুরি (Identity Theft) এবং অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হতে পারে।
এছাড়া ভুল নাম বা পরিচয় দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করলে, আর্থিক তছরুপ বা মানি লন্ডারিং (Money Laundering) হিসাবে গণ্য করা হয়। কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
কেওয়াইসি-তে ভুল তথ্য দিলে ওই ব্যক্তির পরিচয় ক্রেডিট রিপোর্টে নথিভুক্ত হয়ে যায়। ফলে ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়। ভবিষ্যতে কখনওই কোনও ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ (Loan) বা ক্রেডিট কার্ড পাওয়া সম্ভব হয় না।
ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের মধ্যে আর্থিক অপরাধীদের তালিকা শেয়ার করে থাকে। ভুল তথ্য বা জালিয়াতির মাধ্যমে কেওয়াইসি করার কারণে কোনও প্রতিষ্ঠানে কালো তালিকাভুক্ত হলে, অন্যান্য আর্থিক পরিষেবা থেকেও চিরতরে বঞ্চিত হতে পারেন।
যদি কেওয়াইসি জমা দেওয়ার সময় ভুলবশত কোনও বানান বা তথ্য ভুল হয়ে থাকে, তবে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ার (Customer Care) বা শাখায় গিয়ে ভুল স্বীকার করে কেওয়াইসি আপডেট বা কারেকশন ফর্ম (KYC Update/Correction Form) পূরণ করতে হবে।