
নয়া দিল্লি: খাবারের গুণমান নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করল ফুড ডেলিভারি সংস্থা জোম্যাটো (Zomato)। প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত রেস্তোরাঁগুলির ‘অ্যানালগ ডিশ’ বা নকল উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে সংস্থা। মূলত, অ্যানালগ চিজ (Analog Cheese), পনির (Paneer) কিংবা অন্য কোনও দুগ্ধজাত পণ্য দিয়ে তৈরি খাবার বিক্রির নিয়মে এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। নীতি না মানলে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ বা খাবারের লিস্টিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ার অধিকারও নিজেদের হাতে রেখেছে জোম্যাটো।
সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থা জানিয়েছে, যেসব রেস্তোরাঁ তাদের খাবারে ‘অ্যানালগ ডেয়ারি’ ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছে, তাদের অবিলম্বে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। খাবারের উপাদান নিয়ে গ্রাহকদের কাছে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং খাবারের গুণমান উন্নত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
কোনও খাবারে আসল উপাদানের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা কিংবা বিকল্প উপাদান ব্যবহার করে তার স্বাদ, চেহারা বা বৈশিষ্ট্য একই রকম রাখার চেষ্টা করা হলে তাকে ‘অ্যানালগ ডিশ’ বলা হয়। যেমন, আসল দুধ বা চিজের পরিবর্তে উদ্ভিজ্জ তেল-সহ বিকল্প উপাদান ব্যবহার করা।
সম্প্রতি খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে নজরদারি বেড়েছে। মহারাষ্ট্রে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রাজ্যব্যাপী অভিযানের খবর সামনে এসেছে। পাশাপাশি দিল্লির পাঁচতারা হোটেলগুলিতেও পরিদর্শন চালিয়েছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া। এই আবহেই কড়া সিদ্ধান্ত নিল জোম্যাটো।
নতুন নীতির আওতায় রেস্তোরাঁগুলিকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। খাবারে অ্যানালগ ডেয়ারির পরিবর্তে প্রাকৃতিক দুগ্ধজাত পণ্য ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও রেস্তোরাঁর পক্ষে তা অবিলম্বে করা সম্ভব না হলে অ্যানালগ ডেয়ারি ব্যবহার করে তৈরি খাবার মেনু থেকে সরিয়ে দিতে হবে।
শুধু তাই নয়, পণ্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পাওয়া পণ্যের লেবেল এবং উপাদান সংক্রান্ত তথ্যও ভালভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে খাবার তৈরিতে ঠিক কী ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জোম্যাটোর প্ল্যাটফর্মে কোনও খাবার সম্পর্কে যাতে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।
জোম্যাটো স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও রেস্তোরাঁ নতুন নিয়ম না মানলে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। গ্রাহকদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প তৈরি এবং খাবারের উপাদান সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা আনার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
জোম্যাটোর CEO আদিত্য মঙ্গলা বলেন, “সংস্থার মূল লক্ষ্য হল আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে উন্নত মানের খাবার পৌঁছে দেওয়া। তাঁর বক্তব্য, এর অর্থ একদিকে যেমন গ্রাহকদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তেমনই রেস্তোরাঁ পার্টনাররা কী ধরনের খাবার তালিকাভুক্ত এবং পরিবেশন করছেন, তার জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা।”