
কার্তিক আরিয়ান (Kartik Aaryan) এবার বাজিমাত করলেন জাতীয় মঞ্চে। সঙ্গে দক্ষিণী মেগাস্টার মামুট্টি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে প্রকাশ্যে এল ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের চূড়ান্ত তালিকা। সেরার সেরা ছবি হিসেবে শিরোপা ছিনিয়ে নিল ‘আর্টিকেল ৩৭০’।
২০২৪ সালের সেরা কাজের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই এই পুরস্কারের ঘোষণা হয়েছিল। আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর গুজরাটের একতা নগরে (পুরনো নাম কেভাদিয়া) খোদ রাষ্ট্রপতি বিজয়ীদের হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন।
কেন দেওয়া হয় এই পুরস্কার? এর আসল গুরুত্ব ঠিক কোথায়?
১৯৫৪ সাল থেকে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য একেবারেই পরিষ্কার। এমন সিনেমা তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া, যা শিল্পগুণে সমৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা জোরালো সামাজিক বার্তাও তুলে ধরে। শুধু বিনোদন নয়, এই ছবিগুলোর হাত ধরে দেশের নানা প্রান্তের অচেনা সংস্কৃতির স্বাদ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। আর এভাবেই তো সিনেমা আমাদের গোটা দেশকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে, মজবুত করে জাতীয় একতা।
পুরস্কারের খুঁটিনাটি ও অর্থমূল্য
সেরা ছবি ও অভিনেতা-অভিনেত্রী
এবার সেরা ফিচার ছবির পুরস্কার যাচ্ছে ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর ঝুলিতে। আর এই ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন ইয়ামি গৌতম। অন্যদিকে, সেরা অভিনেতার সম্মান ভাগ করে নিয়েছেন কার্তিক আরিয়ান (‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’) এবং মামুট্টি (‘ব্রম্ভাযুগম’)। দর্শকদের বিচারে সেরা জনপ্রিয় ছবির তকমা পেয়েছে বক্স অফিসে রাজত্ব করা ছবি ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’।
পরিচালক ও অন্যান্য চরিত্রে সেরার শিরোপা পেলেন কারা?
‘অমরন’ ছবির জন্য সেরা পরিচালক হয়েছেন রাজকুমার পেরিয়াসামি। আর প্রথমবার ছবি বানিয়েই সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন রণদীপ হুডা (‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’)। সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হয়েছেন সঞ্জয় মিশ্র (‘ভক্ষক’)। সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর সম্মান যৌথভাবে পেয়েছেন সচানা নমীদাস (‘মহারাজা’) এবং রূপশ্রী বরকডি (‘মিথ্যা’)।
পরিবেশ ও সামাজিক বার্তার উপর জোর দিয়ে সেরা ছবি হয়েছে ‘ক্যাপ্টেন মিলার’। পাশাপাশি সেরা শিশু ছবি হয়েছে ‘৩৫ – চিন্না কথা কাডু’। গানের দিক থেকে সেরা মিউজিক ডিরেক্টর হয়েছেন শাশ্বত সচদেব (‘আর্টিকেল ৩৭০’) এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের জন্য জি ভি প্রকাশ কুমার (‘অমরন’)।
ইতিহাস গড়ল সাঁওতালি ছবি
এই বছর একটা বড় চমক রয়েছে। এই প্রথম কোনও সাঁওতালি ছবি জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে ইতিহাস গড়ল। সাঁওতালি ছবি ‘আঙ্গেন’-এর পরিচালক রবি রাজ মুর্মু নন-ফিচার বিভাগে সেরা নবাগত পরিচালকের সম্মান পেলেন।
এছাড়াও সেরা নন-ফিচার ফিল্ম হয়েছে ‘ভাঙ্গার’। সেরা ডকুমেন্টারি ‘রাম-নামী’। ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ ছবির জন্য নন-ফিচারে সেরা পরিচালক হয়েছেন আনন্দ এল রাই। সিনেমা নিয়ে সেরা বইয়ের সম্মান পেয়েছে কন্নড় ভাষার বই ‘নানিরুভুদে নিমাগাগি নাদিরুভুদে নানাগাগি’ এবং সেরা ফিল্ম ক্রিটিক হয়েছেন সঞ্জীব শ্রীবাস্তব।