
দিল্লির যন্তর মন্তরে বেশ কিছুদিন ধরে অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী ও পরিবেশবিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার নানা নিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর এই প্রতিবাদ দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ১৯ দিন পার হয়ে যাওয়ার পর সমাজকর্মীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সব মহলে। এই পরিস্থিতিতে নেটপাড়ায় একটা বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলন নিয়ে কেন চুপ ‘থ্রি ইডিয়টস’ তারকা আমির খান? অবশেষে সেই নীরবতা ভাঙলেন অভিনেতা। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিলেন এক দীর্ঘকালীন ধারণার আসল সত্যি।
সাধারণ মানুষের মধ্যে বহু বছর ধরে একটা বিশ্বাস ছিল যে, ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবির জনপ্রিয় চরিত্র ‘ফুনসুখ ওয়াংড়ু’ আসলে সোনম ওয়াংচুকের জীবন ও কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি। সম্প্রতি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের (BFI) একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আমির খান এই বিষয়ে সরাসরি মুখ খোলেন। তিনি সাফ জানান, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ছবি তৈরির সময় তিনি বা পরিচালক রাজকুমার হিরানি, কিংবা লেখক অভিজাত জোশী, কেউই সোনম ওয়াংচুককে চিনতেন না।
আমির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটা একটা মস্ত বড় ভুল ধারণা। ছবিটা করার সময় আমরা সোনম ওয়াংচুক নামের কারও কথা জানতামই না। সম্প্রতি ওমি বৈদ্যর (ছবির চতুর চরিত্র) একটা ভিডিয়ো দেখেছি, যেখানে ও এই দাবি করেছে। কিন্তু চতুর ভুল বলছে। হয়তো ও নিজেই এমনটা ভাবত। খোদ সোনম বাবুও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে এই চরিত্রটি ওঁর ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়।” তবে এই তথ্যের অমিল থাকা সত্ত্বেও সোনম ওয়াংচুকের কাজের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা জানাতে ভোলেননি আমির। তিনি যোগ করেন, সোনম বাবু সমাজে যে চমৎকার কাজ করছেন, তার জন্য তাঁকে সম্মান জানাতে ছবির চরিত্রের সাহায্যের কোনও প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, সোনম ওয়াংচুক কিন্তু বরাবরই এই সিনেমা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘থ্রি ইডিয়টস'(২০০৯) ছবিতে তাঁর জীবনের বা কাজের ছায়া থাকলেও, এই সিনেমার সঙ্গে ওঁর কোনও সরাসরি যোগ নেই। এমনকি ছবিটি তৈরির আগে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা বা অনুমতি নেওয়া হয়নি। ২০০৮ সালের একটি অনুষ্ঠানে আমিরের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তখন তিনি আমিরকে সিয়াচেন সীমান্ত নিয়ে ছবি করার এবং যুদ্ধের বদলে শান্তি ও শিক্ষার গল্প বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা বাস্তবে ঘটেনি।
এখানেই শেষ নয়, ওয়াংচুকের দাবি, তাঁর যোগ্য সম্মান তিনি পাননি। এরপর নাকি টিমটি তাঁর অনুমতি ছাড়াই অন্য একটি স্কুলে গিয়ে শ্যুটিং করে আসে। এই নিয়ে নির্মাতাদের চিঠি দিলেও কোনও উত্তর পাননি ওয়াংচুক। তবে সিনেমার সাফল্যের আবহে বিতর্ক বাড়াতে চাননি তিনি, যাতে লোকে একে ‘টাকার লোভ’ না ভাবে।
আপাতত অনশন মঞ্চে দিন দিন সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ৯ কেজি ওজন হারিয়েছেন, যা নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই বিষয়ে নিজের দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে আমির খান বলেন, “আমরা সবাই ওঁর স্বাস্থ্য ও জীবন নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। আমরা শুধু এটুকুই আশা করছি যাতে তিনি দ্রুত অনশন ভাঙেন এবং নিজের শরীরের যত্ন নেন।” তবে জিনাত আমান, সোনি রাজদান, ইমরান খান, স্বরা ভাস্করের মতো বলিউড তারকারা সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের পাশেই দাঁড়িয়েছেন।