Aamir Khan parenting: ‘সন্তান ক্লাসে ফার্স্ট হোক, চাই না!’ সন্তানদের কী শিক্ষা দিয়ে বড় করেছেন আমির?

Aamir Khan on raising independent children: পড়াশোনায় প্রথম হওয়া নয়, আমির খানের কাছে সন্তানের ভালো মানুষ হওয়াই শেষ কথা। ভারতীয় মা-বাদের চোখ খুলে দেওয়ার মতো কিছু জরুরি পেরেন্টিং মন্ত্র শেয়ার করলেন বলিউডের 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'।

Aamir Khan parenting: সন্তান ক্লাসে ফার্স্ট হোক, চাই না! সন্তানদের কী শিক্ষা দিয়ে বড় করেছেন আমির?
কী বলেছেন আমির?Image Credit source: wikipedia and instagram

Jul 19, 2026 | 12:15 PM

বলিউডে আমির খান (Aamir Khan) মানেই পর্দায় নিখুঁত অভিনয় আর বক্স অফিসে বাজিমাত। কিন্তু ক্যামেরার পেছনের দুনিয়ায় তিনি আর পাঁচজন সাধারণ অভিভাবকের মতোই সংবেদনশীল এক বাবা। জুনায়েদ, ইরা আর আজাদ, তিন সন্তানের এই পিতা রুপোলী পর্দায় ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ হিসেবে পরিচিত হলেও, বাস্তবে সন্তানদের ওপর সাফল্যের কোনও অদৃশ্য চাপ কখনও তৈরি করেননি। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় যেখানে পরীক্ষার নম্বর আর র‍্যাঙ্কিং দিয়ে মেধা মাপা হয়, সেখানে দাঁড়িয়ে আমিরের পেরেন্টিং দর্শন এক ধাক্কায় বদলে দিতে পারে চেনা চিন্তাভাবনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সন্তানরা ক্লাসে ফার্স্ট হোক, তা তিনি কোনওদিনই চান না।

এ দেশের সিংহভাগ পরিবারে যখন পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে প্রতিনিয়ত চাপ দেওয়া হয়, ঠিক তখনই আমিরের এই মন্তব্য রীতিমতো চর্চা ফেলে দিয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেছেন, “আমি চাই না আমার ছেলেমেয়েরা ক্লাসে ফার্স্ট হোক।” তিনি মনে করেন, পুথিগত বিদ্যার চেয়ে কৌতূহল এবং জীবনের আনন্দ খুঁজে পাওয়াটা অনেক বেশি জরুরি। সন্তানরা যেন প্রতিদিন সকালে একরাশ উদ্দীপনা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠে, নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে, সেটাই তাঁর কাছে আসল সাফল্য।

আমির খানের এই ছকভাঙা জীবনবোধ কেবল মুখের কথা নয়, তা সন্তানদের আচরণেও প্রতিফলিত হয়। বলিউডের অন্যতম শীর্ষ তারকা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সন্তানরা বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দেননি। আমির গর্বের সঙ্গে জানান, “ওরা তিনজনেই ভীষণ সংবেদনশীল এবং সহানুভূতিশীল। এটা আমাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে। ওরা আমার সম্পত্তির ওপর একেবারেই নির্ভরশীল নয়। সাধারণ জীবনযাত্রা আর আত্মনির্ভরতাকেই ওরা গুরুত্ব দেয়। একজন বাবা হিসেবে এটা আমাকে মানসিক শান্তি দেয়।” প্রাচুর্যের মধ্যে বড় হয়েও মাটিতে পা দিয়ে চলার এই শিক্ষা আজকের দিনে সত্যিই বিরল।

আমিরের পেরেন্টিংয়ের আরও একটি বড় দিক হল সন্তানদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া। এই প্রসঙ্গে অভিনেতার বড় ছেলে জুনায়েদ খান এক সাক্ষাৎকারে খোলসা করেছেন বাবার ভেতরের রূ পটি। জুনায়েদের বক্তব্য, “আমরা নির্দিষ্ট কোনও বিষয়ে নিজে থেকে পরামর্শ না চাইলে উনি আমাদের ওপর কিছু চাপিয়ে দেন না। উনি নিজের মতো করে আমাদের ছেড়ে দেন।”

আমির তাঁর ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার সেই বিখ্যাত সংলাপের মতোই মনে করেন, সাফল্যের পেছনে না ছুটে উৎকর্ষের পেছনে ছোটা উচিত। এছাড়া সন্তানদের মেধা বা শৃঙ্খলার চেয়েও তাদের মানবিকতাবোধকে এগিয়ে রেখেছেন তিনি। অভিনেতার মতে, “সহানুভূতি ও যত্ন নেওয়ার ক্ষমতাই একটি শিশুর সবচেয়ে বড় গুণ, যার মধ্যে ভালোবাসা ও করুণা লুকিয়ে থাকে।” প্রতিটি শিশুর নিজস্ব গতি ও সম্ভাবনাকে সম্মান জানিয়ে, অন্য কারও সঙ্গে তুলনা না করার এই বার্তা বর্তমান প্রজন্মের সমস্ত মা-বাবার জন্যই এক অভিনব পাঠ।

Follow Us