
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান (Aamir Khan) পর্দায় যেমন ছক ভাঙতে ভালোবাসেন, বাস্তব জীবনের ফিলোসফিতেও তিনি ঠিক ততটাই আধুনিক । আমাদের সমাজে একটা অলিখিত নিয়ম রয়েছে, ডিভোর্স মানেই দুটো চেনা মানুষের রাস্তা চিরতরে আলাদা, মুখ দেখাদেখি বন্ধ আর একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া। কিন্তু এই চেনা বৃত্তের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ এক অন্য সমীকরণ তৈরি করেছেন আমির। প্রথম স্ত্রী রীনা দত্ত কিংবা দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ রাও, দুজনের সঙ্গেই বিচ্ছেদের পর যেভাবে তিনি বন্ধুত্ব টিকিয়ে রেখেছেন, তা সত্যিই ডিজিটাল দুনিয়ায় এক বড়সড় চর্চার বিষয়। বিশেষ করে আজ যখন আমির আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন, তখন আমিরের এই পুরনো দর্শন এবং তাঁদের বর্তমান সমীকরণটি নতুন করে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে।
একটি সাক্ষাৎকারে সম্পর্কের এই ম্যাচিওরিটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমির সটান প্রশ্ন তুলেছিলেন, “ডিভোর্স হয়ে গেলেই কি মানুষ সঙ্গে সঙ্গে একে অপরের শত্রু হয়ে যায়?” অভিনেতার স্পষ্ট কথা, আইনি বন্ধন ছিন্ন যাওয়া মানেই একটা মানুষের প্রতি মনের সব শ্রদ্ধা বা টান এক নিমেষে কর্পূরের মতো উবে যাওয়া নয়। রীনা এবং কিরণ, দুজনের প্রতিই তাঁর মনে আজও অগাধ সম্মান রয়েছে। পার্টনার হিসেবে হয়তো জীবনের চাকা একসঙ্গে ঘোরেনি, কিন্তু মানুষ হিসেবে একে অপরের ভালো বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষী হতে তো কোনও বাধা নেই!
মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষকদের মতে, তিক্ততাহীন বিচ্ছেদ কেবল সন্তানদের মানসিক বিকাশের জন্যই ভালো নয়, তা প্রাক্তন দম্পতির নিজেদের জীবনকেও অনেক সহজ ও পজিটিভ করে তোলে। আমির ঠিক এই জীবনবোধটাকেই আপন করে নিয়েছেন। আর তাই তো বিচ্ছেদের পরেও আমিরকে তাঁর দুই প্রাক্তনের সঙ্গে হাসিমুখে পারিবারিক আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা যায়, একসঙ্গে প্রোডাকশনের কাজ সামলাতেও কোনও অস্বস্তি হয় না তাঁদের। আমির মনে করেন, বিয়ের খাতা বন্ধ হলেও আজীবনের চেনা মানুষের প্রতি মানবিকতার সম্পর্কটা কখনও মরে যায় না। শুধু সমাজের ভয় বা ইগোর লড়াইয়ে ডিভোর্সকে একটা ট্র্যাজেডি না বানিয়ে, পরিপক্ব মন নিয়ে তাকে একটা সুন্দর বন্ধুত্বের রূপ দেওয়া সম্ভব। আজ আমিরের বিয়েতেও উপস্থিত থাকবেন তাঁর আগের পক্ষের দুই স্ত্রী রীনা এবং কিরণ।