
শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan)-এর সঙ্গে ‘জোশ’ ছবিতে একসময়ে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি। ‘মাচিস’ কিংবা ‘কেয়া কহনা’-র মতো হিট ছবিতে যাঁর অভিনয় আজও দর্শকের মনে টাটকা, সেই অভিনেতা চন্দ্রচূড় সিং এবার সিনেমার পর্দা ছেড়ে বাস্তবের এক বড় পারিবারিক আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লেন। কোটি কোটি টাকার পারিবারিক সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার অভিযোগ তুলে সরাসরি নিজের কাকিমা ও খুড়তুতো ভাইদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) করলেন এই বলি তারকা।
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের। শুক্রবার সেখানকার রোরওয়ার থানায় হাজির হয়ে চন্দ্রচূড় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৯৭ সালের একটি উইল। অভিনেতার দাবি, তাঁর দাদু ঠাকুর হরেন্দর পাল সিং যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন এবং গুরুতর অসুস্থতার কারণে আইনি কাগজে সই করার মতো শারীরিক অবস্থায় ছিলেন না, ঠিক তখনই তাঁর সই জাল করা হয়েছিল। এই জালিয়াতির নেপথ্যে ছিলেন তাঁর কাকা গঙ্গা সিং এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা।
চন্দ্রচূড়ের বক্তব্য, এই ভুয়ো উইলের মাধ্যমে তাঁর বাবা, প্রয়াত প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক ক্যাপ্টেন বলদেব সিংকে ন্যায্য পৈতৃক ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। যে সময়ে এই ভুয়ো দলিল তৈরি হয়েছিল, তখন তাঁর বাবা আলিগড়েই ছিলেন না। অভিনেতা আরও জানান, তাঁর অন্য এক কাকা পুনিয়া প্রতাপ সিং দাদুর আগেই মারা যান।
এখানেই শেষ নয়। অভিনেতার গুরুতর অভিযোগ, সেই জাল উইলের জোরে গত কয়েক বছরে পরিবারের বেশ কিছু মূল্যবান সম্পত্তি গোপনে ও অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রচূড় জানান, তিনি উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং নিজের বয়ান রেকর্ড করিয়েছেন।
যদিও এই পারিবারিক বিবাদ আজকের নয়। গত বছরই অভিনেতার কাকিমা গায়ত্রী দেবী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, উইলটি সম্পূর্ণ আসল এবং চন্দ্রচূড় তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। তবে শুক্রবার চন্দ্রচূড় সিংয়ের নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দাদুর সই সত্যিই জাল ছিল কি না, তা এখন পুলিশি তদন্তেই স্পষ্ট হবে।