
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠী (Pankaj Tripathi)-র পরিবারে আচমকাই নেমে এল ঘোর বিপর্যয়। বিহারে অভিনেতার পৈতৃক ভিটেয় জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো বিবাদ চরম সীমায় পৌঁছাল। নিজের দাদাকে লাঠি, ডান্ডা ও রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। রবিবার রাতের এই নজিরবিহীন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার বারৌলি থানার অন্তর্গত বেলসান্দ গ্রামে। অভিনেতার দাদার নাম বিজেন্দ্রনাথ তিওয়ারি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পাটনার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার আগেই বিহার পুলিশ কড়া পদক্ষেপ করেছে এবং ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পৈতৃক সম্পত্তি এবং জমিজমা সংক্রান্ত কোনও একটি বিষয় নিয়ে বেলসান্দ গ্রামে বিজেন্দ্রনাথবাবুর সঙ্গে স্থানীয় কিছু মানুষের বচসা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই সামান্য বিবাদ যে নিমেষের মধ্যে এমন রক্তক্ষয়ী রূপ ধারণ করবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আচমকাই একদল লোক লাঠি ও লোহার রড নিয়ে বিজেন্দ্রনাথবাবুর ওপর চড়াও হয়। চলে এলোপাতাড়ি মারধর। লাঠির ঘায়ে মাথা ও শরীরে গুরুতর চোট পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা ছুটে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। গুরুতর জখম বিজেন্দ্রনাথবাবুকে উদ্ধার করে রবিবার গভীর রাতেই প্রথমে গোপালগঞ্জ মডেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা কোনও ঝুঁকি নেননি। প্রাথমিক চিকিৎসার পরেই তাঁকে তড়িঘড়ি পাটনার একটি উন্নতমানের হাসপাতালে রেফার করা হয়। আপাতত সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক।
এই চরম সংকটের মুহূর্তে জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠীর পরিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে নারাজ। গোটা ঘটনায় এক প্রকার থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে গোটা পরিবারে। তবে পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুততার সঙ্গে তদন্তে নামে প্রশাসন। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (SP) বিনয় তিওয়ারি জানিয়েছেন, “ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হচ্ছে।”
তবে পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেই ধৃত এবং বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ। গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকেও কড়া নজর রাখছে স্থানীয় থানা।