
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় গায়ক আদনান সামি ২০১৫ সালে ভারতের নাগরিকত্ব পান। বিপুল অঙ্কের সম্পত্তি ফেলে রেখে স্রেফ মূল্যবোধের টানে তিনি এ দেশের নাগরিক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে তাঁর একটি ছবি প্রকাশ আসতেই নতুন করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন গায়ক। তাঁর দাবি, প্রতিটি মুহূর্তে তাঁকে যেন আতশকাচের নিচে রেখে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তান— দুই প্রতিবেশী দেশের দিক থেকেই এক অদৃশ্য মানসিক চাপ নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে তাঁকে।
মাঝেমধ্যেই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় আদনানকে। প্রকাশ্যে ইসলামাবাদের সমালোচনা করার পাশাপাশি বেশ কিছু গোপন তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। তা সত্ত্বেও এ দেশে তাঁর দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বেশ ক্ষুব্ধ গায়ক। বিশেষ করে পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর থেকেই তিনি প্রচারের আলোয়। একদিকে জন্মভূমির কড়া সমালোচনা, অন্যদিকে ভারতের প্রতি নিখাদ আনুগত্য প্রকাশ— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে পাকিস্তানি মন্ত্রী ও আমলাদের কটাক্ষের শিকারও হতে হয়েছে তাঁকে। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানের প্রশাসনিক কর্তাদের বাগ্যুদ্ধ এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই পরিস্থিতিকে আদনান সামি ‘এক্স লাভার সিনড্রোম’ বা প্রাক্তনের ক্ষোভ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আদনান জানান, “দীর্ঘ ১৮ বছরের লড়াই এবং অজস্র প্রত্যাখ্যানের পর আমি ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছি। এই নিয়ে কোনোদিন চেঁচামেচি করিনি। সীমান্তের দুই পারেই আমাকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কিন্তু যখন আপনি কোনো দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তখন সেই মাটির প্রতি আনুগত্যই শেষ কথা বলে। তাই কেউ যখন আমার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলে, আমার হাসি পায়।” গায়কের সাফ কথা, যাঁরা তাঁর জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা এই নাগরিকত্ব জন্মসূত্রে বা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। কিন্তু আদনানকে এই অধিকার ছিনিয়ে নিতে হয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর।