
“টাকার প্রয়োজন, তাই বিগ বসে এসেছি”—শো শুরু হওয়ার আগেই স্পষ্ট ভাষায় নিজের উদ্দেশ্য জানিয়ে দিয়েছিলেন টলিউডের পরিচিত মুখ, অভিনেতা অনিন্দ্য সেনগুপ্ত। অন্য প্রতিযোগীরা যখন ঝগড়া-ঝাঁটি, কটূক্তি কিংবা ফল চুরির মতো ছোটখাটো নাটকে নিজেদের লাইমলাইটে রাখার চেষ্টা করছিলেন, তখন অনিন্দ্য ছিলেন একেবারেই শান্ত ও নিষ্ক্রিয়। ঘরের খেলায় মন না দিয়ে দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমানো কিংবা টাস্ক এড়িয়ে যাওয়ার জন্য কটাক্ষের শিকারও হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু প্রথম সপ্তাহেই যে তিনি এলিমিনেট হয়ে যাবেন, তা হয়তো কেউই ভাবেননি। তবে তাঁর বিদায়ের চেয়েও বেশি সোশাল মিডিয়ায় বিতর্ক তৈরি করেছে তাঁকে বের করে দেওয়ার ধরন এবং সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য।
গত শনিবার ‘বিগ বস বাংলা’-র মঞ্চ থেকে প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে বাদ পড়েন অনিন্দ্য। বিদায় জানানোর মুহূর্তে শোয়ের সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মন্তব্য করেন যে, অনিন্দ্য কেবল টাকার জন্যই খেলেছেন, খেলার প্রতি তাঁর কোনও প্যাশন ছিল না। সঞ্চালক সৌরভ আরও জানান, খেলায় অংশগ্রহণ করা এবং তাতে মন দেওয়াটাই আসল কথা, টাকা উপার্জন কখনও মুখ্য উদ্দেশ্য হতে পারে না। দর্শকদের মতের ওপর ভিত্তি করেই অনিন্দ্যকে এই শোয়ের অনুপযুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়।
তবে সৌরভের এই বক্তব্য প্রচার হতেই সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। অনিন্দ্যর এই খোলামেলা ও সৎ স্বীকারোক্তিকে অধিকাংশ নেটিজেনই সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি—বিগ বসের মতো রিয়্যালিটি শোয়ে সবাই তো অর্থ ও পুরস্কারের জন্যই অংশ নেন, তবে অনিন্দ্য তা সোজাসুজি বলায় কেন তাঁকে খাটো করা হবে?
এখানেই শেষ নয়, অনেকেই অনিন্দ্যর মানসিক স্বাস্থ্য এবং থেরাপির প্রসঙ্গ তুলে দাবি করছেন, বিগ বস প্রোডাকশন একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে শোয়ের স্বার্থে অসম্মান করেছে। কেউ কেউ আবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও কাঠগড়ায় তুলে প্রশ্ন করেছেন—সঞ্চালনার বিনিময়ে তিনিও তো মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, তাহলে একজন প্রতিযোগীর আর্থিক প্রয়োজনের কথা বলাটা অপরাধ হবে কেন?
এদিকে অনিন্দ্যর বিদায়ের পরপরই শোয়ে নতুন হাওয়া নিয়ে ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ হিসেবে প্রবেশ করেছেন মডেল-অভিনেতা রাজবীর দে। তাঁর আগমনে ভেতরের সমীকরণ বদলাতে শুরু করলেও, বাইরে নেটপাড়ায় অনিন্দ্যর বিদায় নিয়ে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। যদিও ট্রোলার ও নেটিজেনদের এই তীব্র সমালোচনার মুখে বিগ বস কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।