
শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan) মানেই সিনেমা হলের বাইরে উন্মাদনা, হাউজফুল বোর্ড আর এক নিমেষে চর্চার কেন্দ্রে চলে আসা। বলিউড বাদশার একটা ছবি মুক্তির অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন তাঁর ভক্তরা। ২০১৪ সালে অনুপম খেরের একটি শো-তে বাদশা দাবি করেছিলেন, তিনিই ‘ইন্ডাস্ট্রির শেষ সুপারস্টার’! ভক্তরা সেই ডায়লগ নিয়ে আজও মাতামাতি করেন বটে, তবে প্রবীণ অভিনেতা অন্নু কাপুর কিন্তু বিষয়টায় মোটেই সায় দিচ্ছেন না। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, বিনোদন জগতে ‘শেষ’ বলে কিছু হয় না। আজ যিনি মধ্যমণি, কাল সময় বদলে গেলে অন্য কেউ তাঁর জায়গা নেবে।
কী নিয়ে বিতর্ক?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখের ওই ‘লাস্ট সুপারস্টার’ তকমাকে একপ্রকার হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন অন্নু কাপুর। তাঁর মতে, অনুরাগী মহল সবসময়ই কাউকে না কাউকে ‘শেষ তারকা’ বলে দাগিয়ে দিতে ভালোবাসে। একসময় রাজেশ খান্নাকে নিয়েও ঠিক একই কথা বলা হতো। কিন্তু সিনেমা তো আর সেখানে আটকে থাকেনি!
Annu Kapoor
কার সঙ্গে তুলনা?
সেই সাক্ষাৎকারে কথার প্রসঙ্গে উঠে আসে অমিতাভ বচ্চন, লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের মতো কিংবদন্তিদের নাম। অন্নুর স্পষ্ট কথা, দশকের পর দশক ধরে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে প্রাসঙ্গিক থাকার যে নজির অমিতাভ বচ্চনরা তৈরি করেছেন, তা সত্যিই বিরল। ১৯৯২ সালে নিজের কেরিয়ার শুরু করা শাহরুখ ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৪ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। কিন্তু অমিতাভের স্কেলে মাপলে, আজ থেকে ঠিক ১৯-২০ বছর পর, অর্থাৎ ২০৪৫ সালে গিয়ে কি শাহরুখ আদতেও আগের মতো মানুষের মনে জায়গা ধরে রাখতে পারবেন? অন্নুর সোজাসাপ্টা বক্তব্য, “আমার তো মনে হয় না তখন আর এই প্রাসঙ্গিকতা থাকবে!”
সবচেয়ে মজার বিষয় হল, ১৯৯৩ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ডর’-এ শাহরুখের সঙ্গে একসঙ্গেই কাজ করেছিলেন অন্নু কপূর। কিন্তু সেই কথা তুলতেই রীতিমতো আকাশ থেকে পড়লেন বর্ষীয়ান তারকা! স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে বললেন, “ওঁর সঙ্গে কাজ করেছি? আমার তো মনেই পড়ছে না!” পরক্ষণেই খোলসা করলেন, যশ চোপড়ার অনুরোধে ডর-এ মাত্র তিন দিনের শুট করেছিলেন। তখন শাহরুখ ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারেই নতুন। তাই আলাদা করে কোনো স্মৃতি মনের কোণে জমা নেই।
অবশ্য কিং খানের ব্যক্তিজীবনকে ফুল নম্বর দিয়েছেন অন্নু। শাহরুখের বিশ্বজোড়া সম্পত্তি আর আর্থিক সাফল্যকে সমীহ করার পাশাপাশি তিনি জানান, পর্দার মেকি তারকাবৃত্তির চেয়ে রক্ত-মাংসের শাহরুখ অনেক বেশি খাঁটি। দায়িত্বশীল বাবা, পারফেক্ট স্বামী আর অনুগত ভাই হিসেবে শাহরুখ যে নজির গড়েছেন, সেটাই নাকি দিনশেষে আসল সাফল্য।