
টলিপাড়ায় আবার বিয়ের সানাই। তবে এই বছর বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে না। এবার আংটি বদল করলেন অনুভব কাঞ্জিলাল আর অনুষ্কা চক্রবর্তী। পরিবারের লোকজনদের নিয়ে হল বাগদান পর্ব।
কীভাবে প্রেমপর্ব শুরু হয়েছিল? টিভি নাইন বাংলাকে অনুষ্কা জানালেন, ”আমার প্রথম ছবি ‘হীরালাল’-এর প্রিমিয়ারে অনুভবের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ২০১৯ সালে ছবিটা মুক্তি পেয়েছিল। ছবিটা দেখে ও আমার প্রশংসা করেছিল। প্রথম তিন-চার বছর খুবই ফর্ম্যাল সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তারপর অন্য ব্যক্তিদের কারণে আমাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়। তখন একে-অপরকে এড়িয়ে যেতাম। তারপর আবার একটা বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে দেখা হওয়ার পর ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায়। ২০২২-এর শেষে অনুভব আমাকে ওঁর বাবা অঞ্জন কাঞ্জিলালের পরিচালনায় একটা ছবিতে কাজ করার জন্য ডাকে। সেই ছবিটা করার সময় থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব গাঢ় হয়, তারপর প্রেম হয়।” অনুভব যোগ করলেন, ”আমরা অনেকটা সময় একসঙ্গে পথ চলেছি, একসঙ্গে কাজের প্ল্যান করেছি, উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। তারপর সিদ্ধান্ত নিই, একসঙ্গে থাকব।”
টলিপাড়ায় বিয়ে ভাঙা বা প্রেম ভাঙার খবর আসে নিয়মিত। অনেকে বিয়ের বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইছেন ইদানীং। আপনারা কেন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলেন? অনুভব খোলসা করলেন, ”আমি কোনওদিন বিয়ে করতে চাইনি। অনুষ্কাও আমার মতো, বিয়ের ইনস্টিটিউশনে বিশ্বাস করতো না। কিন্তু আমাদের জীবন খুব অনিশ্চিত। বিশেষ করে সিনেমার দুনিয়ার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত। দিনের শেষে যেন বাড়িতে শান্তি খুঁজে পাই, এমনই সকলে ভাবেন। সেই অনুভূুতিটা একে-অপরের মধ্যে পেলাম বলেই মনে হল, আমরা বিয়ে করব। এটা ঠিক, অনেক বিয়ে ভাঙে, তবে সেটা শুধু সিনেমার দুনিয়ায় হয় না। সমাজের সর্বত্রই হচ্ছে। পরের বছর আমরা বিয়ের অনুষ্ঠান করব। তার আগে মনে হল, আমরা যে একে-অপরের সঙ্গে সারা জীবন থাকতে চাই, তারই একটা অনুষ্ঠান করি। তার জন্য এই বাগদান পর্ব। এটাও বলব, ইন্ডাস্ট্রিতে যেমন বিয়ে বা প্রেম ভাঙে, সেরকমই উদাহরণ রয়েছে যাঁরা সারা জীবন খুব সুন্দরভাবে কাটিয়েছেন একসঙ্গে।” অনুষ্কা বললেন, ”তখনই দু’ জন মানুষ আনন্দের সঙ্গে থাকতে পারেন, যখন তাঁদের স্বপ্ন বা কথা বলার জিনিসগুলো কিছুটা একরকম হয়। আমার আর অনুভবের পছন্দ খুব একরকম। সিনেমা আর খাবার নিয়ে আমাদের মধ্যে পাগলামি রয়েছে। বছর তিনেক আমরা একসঙ্গে আছি। এখন অনুভবের পরিবার ছাড়া কিছু ভাবতেই পারি না।”
এই বাগদান পর্বে মেনু ছিল বাঙালি। ফিশফ্রাই, ভাত, লুচি, পোলাও, ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুশাক, কচুপাতা চিংড়ি, দই কাতলা, মাটন, পায়েস, পাঁপড়, চাটনি, মিষ্টি। দু’ জনের বিয়ের আসর বসবে আগামী বছর। তারিখ এখনও ঠিক হয়নি।