
বলিউড অভিনেতা ববি দেওল (Bobby Deol) এখন পর্দায় যতই ‘খলনায়ক’ অবতারে কাঁপিয়ে দিন না কেন, তাঁর নিজের ছোটবেলাটা কিন্তু কেটেছিল চরম আতঙ্কের মধ্যে। সত্তর-আশির দশকের দিল্লির সেই কুখ্যাত ‘রঙ্গা-বিল্লা’ কাণ্ড ভারতবাসীর মনে যে ত্রাস তৈরি করেছিল, তার আঁচ এসে লেগেছিল খোদ দেওল পরিবারেও। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, সুপারস্টার বাবা ধর্মেন্দ্র তাঁর ছোট ছেলেকে কার্যত ঘরের মধ্যে বন্দি করে ফেলেছিলেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের জীবনের সেই অজানা ও হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন ববি।
১৯৭৮ সালের অগস্ট মাসের সেই ঘটনা আজীবন তাড়া করে বেরিয়েছে অভিনেতাকে। দিল্লির এক নৌসেনা কর্তার দুই সন্তানকে অপহরণ ও নৃশংস খুনের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। সেই রঙ্গা-বিল্লার খপ্পরে পড়েছিল ববি দেওলেরই এক স্কুলের বন্ধু। যদিও কপাল জোরে এবং দুই অপহরণকারীর পারস্পরিক বিভ্রান্তির জেরে এক পানের দোকানের সামনে থেকে সে পালিয়ে বাঁচতে পেরেছিল। কিন্তু আসল বিপদ ঘনিয়ে আয়ে তারপরেই। পুলিশি জেরার মুখে পড়ে ববির সেই বন্ধু যখন স্কুলের অন্য বাচ্চাদের নাম বলতে শুরু করে, তখন সেখানে ববি দেওলের নামও সামনে চলে আসে। ব্যস, ছেলের সুরক্ষায় নড়েচড়ে বসেন বাবা ধর্মেন্দ্র।
এরপরই ববির জীবনে নেমে আসে কড়া নিষেধাজ্ঞা। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা, ব্যস, ওইটুকুই ছিল তাঁর জগৎ। ঘরের বাইরে পা রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। এতটাই কড়াকড়ি ছিল যে, ববিকে সাইকেল চালানো পর্যন্ত শিখতে হয়েছিল বাড়ির চারটে দেওয়ালের ভেতরে। এমনকি পরবর্তীকালে কলেজে পড়ার সময়েও যখন বন্ধুরা দেদার হাউস পার্টি করত, ববিকে রাত ৯টার মধ্যেই ফিরতে হত।
ঘটনাচক্রে, সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত পরিচালক প্রোসিত রায়ের ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার সিরিজ ‘রাখ’ (Raakh) তৈরি হয়েছে এই রঙ্গা-বিল্লা কাণ্ডের ওপর ভিত্তি করেই। এই সিরিজটি সমাজের অপরাধ ও নৈতিকতার এক অন্ধকার দিককে তুলে ধরে, যা ববির সেই পুরনো স্মৃতিকে আরও একবার উসকে দিয়েছে। বর্তমানে আলিয়া ভাট ও শর্বরীর সঙ্গে আসন্ন ছবি ‘আলফা’ (Alpha)-র কাজে ব্যস্ত থাকা ববি দেওল আজ যখন পেছনের দিকে তাকান, তখন বোঝেন যে সেই কঠিন অনুশাসন আসলে ছিল এক বাবার বুকভরা ভালোবাসা আর উৎকণ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।