
রাখি পূর্ণিমা (Raksha Bandhan) মানেই ভাই-বোনের ভালোবাসার দিন। বোনেরা ভাইয়ের হাতে রাখি পরিয়ে দেন এবং তাঁর মঙ্গল কামনা করেন। ভাইও সারাজীবন পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু উৎসবের দিনে যদি কোনও বোনের পিরিয়ডস বা মাসিক শুরু হয়ে যায়, তবে মনে হাজারটা সংশয় তৈরি হয়। পিরিয়ড চলাকালীন কি ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধা যায়? নাকি উৎসবের আনন্দ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে?
এই প্রশ্ন বহু মেয়ের মনেই ঘোরে। সাম্প্রতিক একটি ধর্মীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিরিয়ডস একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া এবং পিরিয়ডস চলাকালীনও বোন ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধতে পারেন। তবে পিরিয়ড চলাকালীন পুজো-পাঠ বা মূর্তি স্পর্শের বিষয়ে কিছু ধর্মীয় ও পারিবারিক রীতিতে আলাদা নিয়ম রয়েছে।
তবে যদি আপনার পরিবারে মাসিক চলাকালীন পুজো বা আচার নিয়ে কড়া নিয়ম থাকে এবং আপনি ঠাকুরের জিনিস স্পর্শ করতে না চান, তবে তারও সুন্দর সমাধান রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস মেনে পুজোর কিছু কাজ বাড়ির অন্য কোনও সদস্যকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারেন।
সহজ কিছু নিয়ম মেনেই করতে পারবেন উৎসব উদযাপন:
অন্যের সাহায্য নিন: পুজোর থালা সাজানো, চন্দন তৈরি বা প্রদীপ জ্বালানোর মতো কাজগুলো নিজে না করে বাড়ির অন্য কোনও সদস্যকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারেন।
সরাসরি থালা না ছুঁয়েও রাখি পরা যায়: আপনি নিজে আসন পেতে বসে ভাইকে তিলক লাগিয়ে দিন এবং মিষ্টিমুখ করান। পুজোর থালাটি বাড়ির অন্য কেউ ধরে রাখতে পারেন। এভাবে পরিবারের প্রচলিত রীতি মেনেও রাখির অনুষ্ঠান করা সম্ভব।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: এই দিনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামাকাপড় পরে খোশমেজাজে উৎসবে অংশ নিন। পিরিয়ডস চলাকালীনও পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রেখে ভাইকে রাখি বাঁধতে পারেন।
আসল কথা হল, রাখিবন্ধন ভাই-বোনের ভালোবাসা ও সম্পর্কের প্রতীক। পিরিয়ডস চলাকালীন ভাইকে রাখি বাঁধার ক্ষেত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ না থাকলেও, পুজো বা ধর্মীয় আচারের নিয়ম পরিবার ও বিশ্বাসভেদে আলাদা হতে পারে। তাই নিজের পারিবারিক রীতি ও বিশ্বাসকে সম্মান করেই আনন্দের সঙ্গে উৎসব পালন করতে পারেন।