
পনেরো বছর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেই শুরু হয়েছে দল বদলের পালা। এরই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করছে সিনেমার ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিভাগে। যেমন ইমপা মানে প্রযোজক সংস্থায় বিক্ষুব্ধ প্রযোজকরা এই সংস্থার দফতরে বিক্ষোভ দেখিয়ে ইসি কমিটি ভেঙে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে বিক্ষুব্ধ প্রযোজকরা। গেরুয়া ঝড় উঠতেই ইমপার অফিস গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে সাফ করার মতো ছবিও দেখা গিয়েছে।
ইমপার নির্বাচিত সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবিও জানায় তাঁরা। জরুরি ভিত্তিতে মিটিং ডাকতে হয় ইমপার সভাপতিকে। সেই মিটিং এ ঠিক করা হয় আগামি ২২ মে জেনারেল মিটিং হবে। এমনই জানিয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। ইতিমধ্যেই ইমপার অফিসে ধুন্ধুমার কান্ড চলে দুইদিন ধরে। সরগরম হয়ে ওঠে ইমপার অফিস। বিক্ষুব্ধ প্রযোজকরা বৌবাজার থানায় অভিযোগ করে মঙ্গলবার ইমপার সেক্রেটারির বিরুদ্ধে, ফাইল লোপাট হতে পারে।
অন্যদিকে পিয়া সেনগুপ্তর আবার বৌবাজারে একই দিনে অভিযোগ করেন ইমপার অফিসের নিরাপত্তা নিয়ে। এরপর বুধবার ইমপার সদস্যদের নিয়ে যখন মিটিং চলে, তখনই পুলিশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী অফিসে এসে নজির সৃষ্টি করে। যদিও বিক্ষুব্ধ প্রযোজকদের মতে তাঁরা আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা মেটাতে চেয়েছিলেন। প্রযোজক পরিবেশক শতদীপ সাহা জানান, বহু বছর ধরে ক্ষোভ জমে রয়েছে, ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারত না। প্রযোজক হলমালিকরা নানা নিয়মে বিরক্ত ছিলেন। ছবি রিলিজের ক্যালেন্ডার নিয়ে মুখ খুলতে পারতাম না। বহুবছর বিজেপি বলে দাগিয়ে দিত। আজ কথা বলার সাহস হয়েছে। এখন দেখার জেনারেল মিটিং এ কী ব্যবস্থা হয়। এই কমিটিকে সকলে মেনে নেয়, নাকি এই কমিটি ভেঙে নতুন নির্বাচনের পথে যায় ইমপা।
গেরুয়া ঝড়ের ঢেউ টেকনিশিয়ানেও পৌঁছে গেছে। টেকনিশিয়ান স্টুডিওর দরজায় রয়েছে বিজেপির পতাকা। এর সঙ্গেই সদ নির্বাচনে লড়ে বিজয়ী হয়েছেন বিজেপির প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষরা চাইছেন ঢেলে সাজাতে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। এছাড়াও ইন্ডাস্ট্রিকে ব্যান কালচারের থেকে মুক্ত করতে চান সদ্য বিজয়ী রুদ্রনীল ঘোষ। এরই সঙ্গে প্রযোজক ডিস্ট্রিবিউটরা চাইছেন বিশ্বাস ব্রাদার্সদের দাদাগিরি শেষ করতে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে টলিপাড়ায় সরকারের প্রভাব বর্জন করা। যদিও রাজনীতির ছায়া থেকে টলিপাড়া দূরে থাকতে পারে কিনা সেটা ভবিষ্যত বলবে।