
দীপিকা পাডুকোন (Deepika Padukone) আর ভেরোনিকা চরিত্রটি যেন একে অপরের পরিপূরক। ২০১২ সালে যখন হোমি আদাজানিয়া ‘ককটেল’ ছবিটা বানিয়েছিলেন, তখন সইফ আলি খান বা ডায়ানা পেন্টির চেয়েও বেশি লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন দীপিকাই। সম্প্রতি রুপোলি পর্দায় মুক্তি পেয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন ছবি ‘ককটেল ২’। আর এই সিক্যুয়েল আসতেই বক্স অফিসের পারদ চড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেটপাড়ায় হু হু করে ভাইরাল হতে শুরু করেছে দীপিকার এক দশকেরও বেশি পুরনো একটি বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার, যা নিয়ে এখন তুমুল চর্চা চলছে বিনোদন দুনিয়ায়।
ছবির প্রমোশনের সময় দীপিকাকে একটি বেশ ছকভাঙা প্রশ্ন করা হয়েছিল। জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোনও নারী যদি তাঁর প্রতি রোম্যান্টিক আগ্রহ দেখান বা ফ্লার্ট করেন, তবে তিনি ঠিক কীরকম প্রতিক্রিয়া দেবেন? সাধারণত এই ধরনের প্রশ্নে অনেক তারকা যেখানে অস্বস্তিতে পড়েন, সেখানে দীপিকা দিয়েছিলেন এক অসম্ভব স্মার্ট ও বোল্ড জবাব। বিন্দুমাত্র না লুকিয়ে হাসিমুখে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, “যখন কোনও মেয়ে আমার ওপর লাইন মারে বা ফ্লার্ট করে, সেটাকে আমি পুরুষদের দেওয়া ফ্লার্টের চেয়ে অনেক বড় কমপ্লিমেন্ট বা প্রশংসা হিসেবে দেখি।” তাঁর এই জবাব সে যুগে তো বটেই, এই ২০২৬ সালেও নেটিজেনদের নতুন করে মন জয় করে নিয়েছে। ভেরোনিকার মতোই বাস্তবেও যে তিনি কতটা ছকভাঙা, এই বয়ান তারই প্রমাণ দেয়।
এদিকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত আধুনিকা প্রেমের গল্প ‘ককটেল ২’ ছবিটি কিন্তু বক্স অফিসে বেশ ভালো ঝড় তুলেছে। হোমি আদাজানিয়ার পরিচালনায় এবং লভ রঞ্জনের চিত্রনাট্যে তৈরি এই ছবিটিতে এবার জুটি বেঁধেছেন শাহিদ কাপুর এবং কৃতি স্যানন। বাণিজ্য বিশ্লেষক সংস্থা স্যাকনিল্কের রিপোর্টের ওপর নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি ঘরোয়া বক্স অফিসে প্রায় ১৩.৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে। শাহিদ কাপুরের কেরিয়ারের নিরিখে এটি তাঁর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং ছবি, যা এর আগে রেকর্ড গড়া ‘কবীর সিং’-এর ঠিক পরেই জায়গা করে নিয়েছে।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটিকে ঘিরে সিনেপ্রেমীদের মধ্যে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় একাংশ দর্শক যেমন শাহিদ-কৃতির রসায়নের প্রশংসা করছেন, তেমনই আবার অনেকে এই ছবিকে একটি ‘নাইটমেয়ার’ বা দুঃস্বপ্ন বলেও কটাক্ষ করছেন। বিশেষ করে রশ্মিকা মন্দানার কাস্টিং নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তবে প্রেক্ষাগৃহে ‘বান্দর’ কিংবা ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’-এর মতো একাধিক বড় ছবির কঠিন প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও ‘ককটেল ২’ কিন্তু দর্শকদের হলে টানতে সফল হচ্ছে, যার বড় প্রমাণ হল নাইটস শোগুলিতে প্রায় ৩৭.৬২ শতাংশের কাছাকাছি দর্শক আসন ভরতি থাকা।