
বরুণ ধাওয়ান (Varun Dhawan) মানেই পর্দায় একরাশ এনার্জি আর দর্শকদের উন্মাদনা। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাই যদি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়? আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপব্যবহার এখন তারকাদের রাতের ঘুম কেড়েছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার আজ এমন এক মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে, কখনও ডিপফেক ভিডিয়ো, তো কখনও ভুয়ো বিজ্ঞাপন, সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে যেন কারও নিস্তার নেই। এবার এই সাইবার অপরাধ এবং অনুমতি ছাড়া নিজের নাম ও ছবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নিলেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেতা। আর এই আইনি লড়াইয়ে তাঁর পক্ষে বড় রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট।
গত ২৯ মে, বিচারপতি জ্যোতি সিং-এর সিঙ্গল বেঞ্চ অভিনেতার ব্যক্তিত্ব এবং ভাবমূর্তি রক্ষার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনও ওয়েবসাইট, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম বা সোশাল মিডিয়া বরুণের অনুমতি ছাড়া তাঁর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর বা তাঁর ব্যক্তিত্বের কোনও অংশ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবে না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা অভিনেতার কিছু আপত্তিকর এবং অশ্লীল ভিডিয়ো। সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে এমন কিছু ভুয়ো ও কুরুচিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা তাঁর সম্মানহানির মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আদালত এই ধরনের কন্টেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের কুরুচিকর কন্টেন্ট অভিনেতার সুনামের ব্যাপক ক্ষতি করছে এবং সাধারণ মানুষকে চরমভাবে বিভ্রান্ত করছে। মানুষ ভাবতে পারে এই ভিডিয়োগুলি সত্যি, যা কখনও কাম্য নয়।
শুধুমাত্র ভিডিয়ো সরানোর নির্দেশ দিয়েই থেমে থাকেনি দিল্লি হাইকোর্ট। গুগল, মেটা এবং এক্স-এর মতো টেক জায়ান্টদের স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যারা এই ধরনের ভুয়ো এবং মানহানিকর কন্টেন্ট ছড়াচ্ছে, তাদের প্রাথমিক তথ্য বা বেসিক সাবস্ক্রাইবার ইনফরমেশন (BSI) আদালতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, বরুণ বা তাঁর টিমের তরফ থেকে নতুন কোনও আপত্তিকর কন্টেন্টের রিপোর্ট করা হলে, তা ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
আদালতে অভিনেতার হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সিনিয়র অ্যাডভোকেট সন্দীপ শেঠি জানান, অনলাইনে বেশ কিছু অসাধু বিক্রেতা বরুণের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর ছবি ও নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের সামগ্রী বিক্রি করছে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু ভুয়ো বুকিং এজেন্সি নিজেদের বরুণের অফিশিয়াল এজেন্ট দাবি করে বিভিন্ন ইভেন্ট বা পারফরম্যান্সের জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলছে। এই ধরনের প্রতারণামূলক কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
অভিনেতা তাঁর আর্জিতে আরও জানিয়েছেন যে, তাঁর নাম এবং স্বাক্ষর রীতিমতো রেজিস্টার্ড ট্রেডমার্কের আওতাভুক্ত। ফলে তাঁর অনুমতি ছাড়া এগুলির যে কোনও রকম ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি। এর আগে বলিউডের প্রবীণ তারকারাও নিজেদের ব্যক্তিত্বের অধিকার (Personality Rights) রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এবার বরুণের এই বড় আইনি জয় প্রমাণ করে দিল যে, প্রযুক্তির আড়ালে থেকে তারকাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার দিন শেষ। সাইবার অপরাধী এবং প্রতারকদের জন্য দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় এক কড়া সতর্কবার্তা।