
প্রয়াত ব্যবসায়ী সঞ্জয় কাপুরের বিশাল সম্পত্তি নিয়ে তাঁর পরিবারের অন্দরে শুরু হয়েছে চরম অশান্তি। সঞ্জয় কাপুরের দ্বিতীয় স্ত্রী করিশ্মা কাপুরের দুই সন্তান কিয়ান এবং সামাইরা কাপুর অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের সৎ মা প্রিয়া সচদেব কাপুর একটি জাল উইল তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, আদালতে সম্পত্তির যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে দামী পোলো ঘোড়া এবং রোলেক্সের মতো বিলাসবহুল ঘড়ির কথা উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে যে, সঞ্জয় কাপুরের এই বিশাল সম্পদ বর্তমানে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এবং তা যেন কোনওভাবেই নষ্ট না হয়। আদালত প্রিয়া কাপুরের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাঁকে এই সম্পত্তি বিক্রি করতে নিষেধ করেছে। পাশাপাশি, সঞ্জয় কাপুরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহারের ওপরও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, উইলটি নিয়ে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে তা দূর করার দায়ভার প্রিয়া কাপুরের ওপরই বর্তায়।
কিয়ান ও সামাইরার দাবি, প্রিয়া কাপুর ইচ্ছাকৃতভাবে স্থাবর সম্পত্তি এবং অত্যন্ত দামী চিত্রকর্মগুলোকে তালিকার বাইরে রেখেছেন। নভেম্বর মাসে এই মামলার শুনানির সময় করিশ্মার সন্তানদের বিদ্রূপ করে ‘ধনী অলিভার টুইস্ট’ বলেও সম্বোধন করা হয়েছিল, যারা কি না আরও বেশি সম্পদ চায়।
গত বছরের ১২ জুন লন্ডনে পোলো খেলার সময় ৫৩ বছর বয়সী সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যু হয়। প্রথমে হৃদরোগের কথা বলা হলেও পরে তাঁর মা রানি কাপুর এই মৃত্যুর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে গত অগাস্টে ব্রিটিশ চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যু স্বাভাবিক নিয়মেই হয়েছে, যার মূল কারণ ছিল হৃদরোগ।
পরিবারের এই কোন্দলে এখন একদিকে রয়েছেন প্রিয়া কাপুর এবং অন্যদিকে সঞ্জয় কাপুরের মা রানি কাপুর, বোন মন্দিরা এবং করিশ্মার দুই সন্তান। আদালত জানিয়েছে, যদি উইলটি পরবর্তীকালে জাল প্রমাণিত হয়, তবে এখন ব্যবস্থা না নেওয়াটা হবে এক ধরণের ‘অবিচার’।