
আমির খান (Aamir Khan) অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ‘ফুংসুক ওয়াংড়ু’ চরিত্রটির কথা মনে আছে তো? পর্দায় যিনি ছিলেন অসাধারণ এক আবিষ্কারক। অনেকেই বিশ্বাস করেন, বাস্তবের বিজ্ঞানী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-এর জীবন থেকেই তৈরি হয়েছিল এই চরিত্র। কিন্তু সম্প্রতি আমির খান এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, ছবিটি তৈরির সময় তিনি সোনমকে চিনতেনই না! ব্যস, এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এবার সেই মন্তব্যেরই মোক্ষম এবং মজার জবাব দিলেন সোনম ওয়াংচুক নিজে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে সোনম সোজা টেনে আনলেন আমিরের ‘গজনি’ সিনেমার কথা। সবাই জানেন, ওই ছবিতে আমিরের চরিত্রটির একটা রোগ ছিল, ১৫ মিনিট পর পরই সব ভুলে যাওয়া। সোনম হাসতে হাসতে বলেন, “অনেক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, আমির গজনি ছবির পোশাকে বসে আমার ভাষণ শুনছেন। হতে পারে চরিত্রের খাতিরে তাঁরও ওই ১৫ মিনিটের স্মৃতি হারানোর রোগ হয়েছিল! সেই কারণেই হয়তো ১৫ মিনিট পরে তিনি আমাকে বেমালুম ভুলে গিয়েছেন। তাই এতে আমি একটুও অবাক হইনি।”
সোনম আরও মনে করিয়ে দেন, “আমরা তো জানি আমির নিজের চরিত্রের গভীরে ডুবে যান। গজনি সিনেমায় উনি এতটাই ডুবে গিয়েছিলেন যে, যে অনুষ্ঠানে উনি নিজে এসেছিলেন আর আমি পুরস্কার নিয়েছিলাম, সেই সাক্ষাতের কথাও হয়তো উনি ভুলে গিয়েছেন।” সোনম স্পষ্ট জানান, তাঁদের মধ্যে একাধিকবার সামনাসামনি বিস্তারিত কথা হয়েছিল। অনেক আইডিয়া নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। সোনমের মতে, আমির হয়তো অবচেতন মনেই সেই সব আইডিয়া ছবির চিত্রনাট্যে ঢুকিয়ে নিয়েছিলেন, যা ছবির লেখকরাও আলাদা করে বুঝতে পারেননি। তবে সোনম এটাও পরিষ্কার করেছেন, তিনি কখনও বলেননি ‘থ্রি ইডিয়টস’ তাঁর নিজের জীবনী বা বায়োপিক। কিন্তু চরিত্র তৈরির পেছনে যে তাঁর কাজের অনুপ্রেরণা ছিল, সেটাই আসল সত্যি।
এর ঠিক আগেই লন্ডনের ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের মঞ্চে আমির বলেছিলেন অন্য কথা। তিনি জানান, সোনমকে নিয়ে যে আলোচনা চলে, তা নাকি পুরোপুরি ভুল ধারণা। ছবিতে ‘চতুর’ চরিত্রে অভিনয় করা ওমি বৈদ্যের একটি ভিডিয়ো দেখে আমির বলেছিলেন, ‘চতুর’ যা বলছেন তা ঠিক নয়। আমির, পরিচালক রাজকুমার হিরানি বা ছবির লেখক অভিজাত জোশী, তখন তাঁদের কেউই সোনম ওয়াংচুককে চিনতেন না। তবে সোনম যে খুব ভালো কাজ করছেন, তা মেনে নিয়েছিলেন আমির।
আমিরের সেই দাবি মানতে নারাজ সোনম। তাঁর এই রসালো ও চাঁচাছোলা মন্তব্যের পর নেটপাড়ায় এখন জোর চর্চা, আমির কি আসলেই সব ভুলে গিয়েছেন, নাকি সত্যিটা আড়াল করছেন?