
সলমন খান (Salman Khan) শুধু বলিউডের সুলতান নন, তাঁর চোখ যে জহুরির চোখ, তা আরও একবার প্রমাণিত হল। অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা এবং জাহির ইকবালের প্রেমের গল্পটা একটু অন্যরকম। এই তারকা দম্পতি নিজেরা মুখে সম্পর্কের কথা স্বীকার করার অনেক আগেই তাঁদের মনের খবর ধরে ফেলেছিলেন স্বয়ং ভাইজান। শুধু কি তাই? প্রেম গোপন করার শাস্তি হিসেবে তাঁদের ব্রেক-আপের এক মজাদার ভবিষ্যদ্বাণীও করে বসেছিলেন সলমন! ব্যাপারটা ঠিক কী?
সম্প্রতি নেহা ধুপিয়া এবং অঙ্গদ বেদীর জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘ডাবল ডেট’-এ হাজির হয়েছিলেন সোনাক্ষী ও জাহির। সেখানেই নিজেদের প্রেমপর্বের এই দারুণ মজাদার ও অজানা গল্প শেয়ার করেছেন তাঁরা। সলমন খানের দেওয়া একটি পার্টিতেই প্রথম আলাপ হয়েছিল এই জুটির। সেই আলাপ যে কখন প্রেমে বদলে গিয়েছিল, তা কাকপক্ষীতেও টের পায়নি। কিন্তু সলমন খানের তীক্ষ্ণ নজর এড়ানো কি এতই সহজ?
টাকাপয়সা বা ছবির ব্যবসার হিসেব নয়, সলমন ধরে ফেলেছিলেন সোনাক্ষী-জাহিরের রসায়নের সমীকরণ। সেই দিনগুলোর স্মৃতি চারণ করে জাহির ইকবাল আড্ডায় জানান, “আমরা সলমনকে জানানোর আগেই তিনি আমাদের ব্যাপারটা ধরে ফেলেছিলেন। সবটা ওঁর চোখে পড়ে গিয়েছিল।”
পাশে বসে থাকা সোনাক্ষী সিনহাও হাসতে হাসতে যোগ করেন সেই অভিজ্ঞতার কথা। সোনাক্ষী জানান, প্রথমদিকে যখনই ভাইজান তাঁদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইতেন, তাঁরা স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে বলতেন, ‘আরে না না, এমন কোনও ব্যাপারই নেই!’ কিন্তু সলমন তো বোকা নন। একদিন তিনি এই লুকোচুরি দেখে রেগে যাওয়ার ভান করে সোজাসুজি বলেন, “দেখো, একদিন তোমাদের ঠিক ব্রেক-আপ হবে। তখন দুজনেই কাঁদবি। আমি তোমাদের দুজনকে খুব ভালোবাসি, তাই তখন কারও পক্ষ নিতে পারব না!” ভাইজানের মুখে এই কথা শুনে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন দুজনে।
সম্পর্কের সিলমোহরটা অবশ্য এসেছিল একটি ট্রেকিং ট্রিপের সময়। জাহিরের দিকে এগিয়ে গিয়ে সলমন মৃদু হেসে শুধু বলেছিলেন, “সব দেখা যাচ্ছে, সব বুঝতে পারছি।” ব্যাস, এরপর আর নিজেদের সম্পর্ক লুকিয়ে রাখার কোনও উপায় ছিল না তাঁদের কাছে।
দীর্ঘ সাত বছর নিজেদের প্রেমকে লাইমলাইটের আড়ালে রেখেছিলেন এই যুগল। ২০২২ সালে ‘ডবল এক্সেল’ সিনেমাতেও একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন তাঁরা। অবশেষে ২০২৪ সালের জুন মাসে মুম্বইয়ে আইনি মতে সই-সাবুদ করে চার হাত এক হয় তাঁদের। সলমনের সেই মজার ভবিষ্যদ্বাণী অবশ্য খাটেনি, ব্রেক-আপ নয়, ছাদনাতলাতেই শেষ হয়েছে এই মিষ্টি প্রেমের গল্প।