
টেলিভিশনের পর্দায় রোজ যাঁদের দর্শক দেখেন, তাঁদের কাছে শুটিংয়ের সেটই হয়ে ওঠে আসল ঘর-বাড়ি। আর সেই চেনা ঘর যখন ভাঙার সময় আসে, তখন মন খারাপ হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের পথ চলা এবার শেষ। ক্যামেরা বন্ধ, নিভে গিয়েছে সেটের আলো। দীর্ঘ ১৪-১৫ মাসের চেনা রুটিনের আচমকাই ইতি। মেকআপ রুম থেকে ফ্লোর, যে সেট এতদিন ‘সেকেন্ড হোম’ হয়ে উঠেছিল, তা এবার ভাঙার পালা। আর এই পরিচিত পরিবেশ থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে রীতিমতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন ধারাবাহিকের ‘অনুভব’ অর্থাৎ অভিনেতা সোমরাজ মাইতি। শেষ দিনের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা, সহশিল্পীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত আর একরাশ মন খারাপের গল্প তিনি ভাগ করে নিলেন টিভি৯ বাংলার সঙ্গে।
চেনা সেটকে বিদায়
শুটিংয়ের শেষ দিন মানেই কাজের একটা আলাদারকম চাপ থাকে। তবে তার চেয়েও বেশি থাকে মন কেমন করা এক অনুভূতি। সোমরাজের কথায়, “একটা টিম, প্রথম দিন থেকে একসঙ্গে জার্নি শুরু করেছিল। আজ সেটা শেষ হতে চলেছে। দিনে ১৪-১৫ ঘণ্টা যে সেটে কাটাই, তা ভেঙে অন্য কারও বাড়ি তৈরি হবে, এটা ভাবলেই ভীষণ খারাপ লাগছে।” এই দীর্ঘ সফরে পরিচালকের সঙ্গে তাঁর একটা দারুণ বন্ডিং তৈরি হয়েছে। এর আগে এই পরিচালকের সঙ্গে তিনটি প্রোজেক্টে কাজ করেছেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। সেট থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সবথেকে বেশি মিস করবেন তাঁকেই।
সহশিল্পী সাইনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সোমরাজ
সহশিল্পীদের মধ্যে কাকে সবথেকে বেশি মনে পড়বে? লাজু, বনলতা নাকি সুদীপ? প্রশ্ন উঠতেই সোমরাজের স্পষ্ট জবাব, “সাইনা!” ধারাবাহিকের প্রথম দিন থেকেই সাইনার সঙ্গে শুটিং করেছেন তিনি। পর্দায় তাঁদের জুটি দর্শকমহলে দারুণ জনপ্রিয়ও হয়েছে। সাইনা বয়সে অনেকটা ছোট, তবে তাঁর কাজে কখনও কোনও অপরিপক্বতা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সোমরাজ। তিনি বলেন, “অভিনেতা তো অভিনেতাই হয়! বয়সে ছোট হলেও সেটে একদম পরিণত অভিনেতাদের মতোই কাজ করেছে সাইনা। ওর ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড থাকায় সেটে কীভাবে থাকতে হয়, তা ও খুব ভালো করেই জানে।” শুধু অন-স্ক্রিন নয়, অফ-স্ক্রিনেও তাঁদের সম্পর্ক দারুণ। অভিনেতার প্রেমিকার সঙ্গেও সাইনার দারুণ বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও যেন একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
আগামী দিনে কোথায় দেখা যাবে ‘অনুভব’-কে?
‘কনে দেখা আলো’-র মতো এত বড় একটা জার্নি শেষ হল, এবার নতুন কী প্ল্যান? ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন। তবে সোমরাজ এখনই কোনও তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন। আগামী ৫-৭ দিন তিনি কিছুটা সময় নেবেন, তারপরই ঠিক করবেন আগামী পদক্ষেপ। আপাতত নতুন কোনও প্রজেক্টের সুযোগ এখনও আসেনি। তবে ভালো কোনও চরিত্র পেলে নিশ্চয়ই ফিরবেন বলে আশাবাদী তিনি। সাক্ষাৎকারের শেষ পর্বে জানা গেল, ঠান্ডা-গরম লেগে শরীরটাও খুব একটা ভালো নেই তাঁর। আপাতত বিশ্রাম নিয়ে নিজেকে নতুন কাজের জন্য প্রস্তুত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ভক্তরাও অপেক্ষায় রয়েছেন প্রিয় সোমরাজকে নতুন রূপে পর্দায় দেখার জন্য।