
রণবীর সিং (Ranveer Singh) এবং ফারহান আখতারের মধ্যে ‘ডন ৩’ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের মেগা বিবাদ এবার এক নতুন মোড় নিল। শাহরুখ খানের জুতোয় পা গলানোর কথা থাকলেও, আচমকাই ছবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন রণবীর। আর এবার জল গড়াল সোজা ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর দরজায়। খবর অনুযায়ী, সোমবারই এই বিতর্কের চূড়ান্ত ফয়সালা হতে চলেছে।
সুত্রের খবর, ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (IFTDA)-এর মাধ্যমে রণবীরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ফারহান। এই সংগঠনের একজন সক্রিয় সদস্য তিনি। এফডব্লিউআইসিই (FWICE) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার পর সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করে তারা নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
কিন্তু বলিউডের এই বহু প্রতীক্ষিত প্রজেক্ট নিয়ে কেন এত বড় সংঘাত? ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম এই সমস্যার সূত্রপাত ঘটে। ‘ধুরন্ধর’ ছবির বিপুল সাফল্যের ঠিক পরেই ‘ডন ৩’ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন রণবীর। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর, চিত্রনাট্যে বেশ কিছু বড়সড় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু নির্মাতারা সেই দাবি মানতে একেবারেই নারাজ ছিলেন। কানাঘুষো শোনা যায়, কেরিয়ারের খারাপ সময়ে ফারহান নাকি রণবীরের বদলে হৃতিক রোশনকে নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। পরে ‘ধুরন্ধর’ হিট হওয়ার পর রণবীরকেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিষয়টি ঘিরেই নাকি নির্মাতাদের ওপর তীব্র ক্ষুব্ধ ছিলেন রণবীর। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ‘ডন ২’ ছবিতে হৃতিকের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও ছিল।
এদিকে মাঝপথে নায়ক সরে যাওয়ায় বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছে এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ফারহান নাকি ৪০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রাক-প্রযোজনার কাজে ইতিমধ্যেই এই বিপুল টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, রণবীর চিত্রনাট্যের প্রতিটি পর্যায়ে সম্মতি দিয়েছিলেন বলে দাবি নির্মাতাদের। এর আগে প্রোডিউসার্স গিল্ড অফ ইন্ডিয়ার কাছেও বিষয়টি গিয়েছিল। তবে তাঁরা আইনি পথে না হেঁটে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যা মেটানোর পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টায় যে জল ঢালা হয়েছে, তা বর্তমান পরিস্থিতি থেকেই স্পষ্ট।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন ফারহান। বেশ কিছুটা হতাশার সুরেই তিনি বলেন, “অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকা উচিত। ক্যামেরার সামনে আসার আগে কোনও কিছুই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায় না। জীবনে এমন কিছু সময় আসে যা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে সেটা মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে হয়। মাঝে মাঝে যখন এমন বাধা আসে, তখন মনে হয় আমার আবার অভিনয়েই ফিরে যাওয়া উচিত। তাহলে অন্তত এসব ঝামেলার সঙ্গে লড়তে হবে না।” এখন দেখার, সোমবার সিনে ফেডারেশন ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেয়।