Fatakesto Kali Puja: জানেন ফাটাকেষ্টর মাকালীকে কী উপহার দিয়েছিলেন জয়া-অমিতাভ?

Amitabh Bachchan-Jaya Bachchan: তিনি কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত, যাঁকে গোটা শহর একডাকে চিনত ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে। কলেজ স্ট্রিটের মোড়ে বাবার ছোট্ট পানের দোকানে যাঁর একসময়ে যাতায়াত ছিল, সময়ের স্রোতে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন শহরের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি। শক্তি, ভক্তি আর জমকালো কালীপুজোকে কেন্দ্র করে ফাটাকেষ্টর সেই দিনগুলো আজও কলকাতার লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

Fatakesto Kali Puja: জানেন ফাটাকেষ্টর মাকালীকে কী উপহার দিয়েছিলেন জয়া-অমিতাভ?

|

Nov 06, 2026 | 6:48 PM

ছোটখাটো গড়ন, মুখে বসন্তের দাগ, পরনে সাধারণ ধুতি-পাঞ্জাবি—বাহ্যিক লুকে বিন্দুমাত্র আড়ম্বর না থাকলেও একসময়ের উত্তর কলকাতায় তাঁর নামই ছিল ত্রাস ও ক্ষমতার অন্য নাম। তিনি কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত, যাঁকে গোটা শহর একডাকে চিনত ‘ফাটাকেষ্ট’ নামে। কলেজ স্ট্রিটের মোড়ে বাবার ছোট্ট পানের দোকানে যাঁর একসময়ে যাতায়াত ছিল, সময়ের স্রোতে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন শহরের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি। শক্তি, ভক্তি আর জমকালো কালীপুজোকে কেন্দ্র করে ফাটাকেষ্টর সেই দিনগুলো আজও কলকাতার লোকসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

মা কালীর প্রতি অগাধ ভক্তি ছিল তাঁর জীবনের মূল মন্ত্র। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির মঙ্গলারতিতে নিয়মিত হাজিরা দিতেন তিনি। সত্তরের দশকে যখন উত্তাল নকশাল আন্দোলনে কাঁপছে শহর কলকাতা, সেইসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সহযোগিতায় গঠিত হয় ‘অক্সিলিয়ারি ফোর্স’। সেই ফোর্সের এক সক্রিয় সদস্য হিসেবেই আত্মপ্রকাশ ঘটে কৃষ্ণচন্দ্র দত্তের। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর ক্ষমতার শিখরে ওঠার পালা। ধীরে ধীরে উত্তর কলকাতার দাপুটে মোড়ল হয়ে ওঠেন তিনি।

ফাটাকেষ্টর নাম উঠলেই সবার আগে মনে পড়ে যায় তাঁর গড়া জমকালো কালীপুজোর কথা। নবযুবক সংঘের অত্যন্ত সাধারণ ও ছোট্ট একটি পুজোকে নিজের উদ্যোগে সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে নিয়ে এসে এক বিশাল মহোৎসবে রূপ দিয়েছিলেন তিনি। ১৬ ফুট উঁচু বিশালাকার প্রতিমা এবং চন্দননগরের তাক লাগানো আলোকসজ্জা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসত মানুষ। এখনও সেই উদ্দীপনায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। এই পুজোর আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল এর দীর্ঘ স্থায়িত্ব—প্রায় ১২ দিন ধরে মণ্ডপে প্রতিমা রাখা হতো, আর বিসর্জনের দিনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দেখতে উপচে পড়ত সাধারণ মানুষের ভিড়।

ফাটাকেষ্টর এই রমরমা পুজোয় ভিড় জমাতেন বলিউডের নামী-দামী তারকারাও। সেই সোনালী তালিকায় খোদ মহাতারকা অমিতাভ বচ্চনের নামও স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা রয়েছে। ১৯৭৬ সালে ‘দো আনজানে’ ছবির শুটিংয়ের জন্য কলকাতায় এসে ফাটাকেষ্টর বিশেষ আমন্ত্রণে এই পুজো মণ্ডপে হাজির হয়েছিলেন বিগ বি। শুধু তাই নয়, দেবী কালীর প্রতি ভক্তি জানিয়ে অমিতাভ ও জয়া বচ্চনের পক্ষ থেকে মায়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল একটি বহুমূল্য হিরে খচিত নাকছাবি। শোনা যায়, যদিও পরবর্তীতে সেই মহামূল্যবান নাকছাবিটি চুরি হয়ে যায়, তবুও তার গুরুত্ব ও স্মৃতির টানে পরবর্তীতে অবিকল তেমনই একটি প্রতিলিপি বানিয়ে মায়ের নাকছাবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়—যা আজও ওই পুজোর অন্যতম ঐতিহাসিক সম্পদ।

ক্ষমতার রদবদল ঘটেছে, শহর বদলেছে, কিন্তু উত্তর কলকাতার বুকে ফাটাকেষ্টর সেই তেজোদীপ্ত স্মৃতি এবং তাঁর দুর্গোৎসব বা কালীপুজোর জৌলুস আজও শহরের মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us