‘মহুয়াদিদির হাতে কিছু কাটা দাগ ছিল…’, ঋতুপর্ণা, নন্দিনী আর কী বললেন

সাল ১৯৮৫। ২২ জুলাই ভোরবেলা ঘোষণা হয়, মহুয়া রায়চৌধুরী আর নেই। বাংলা ছবির দাপুটে অভিনেত্রী। তাঁর জীবনযাপন ঘিরে বহু রহস্য দানা বেঁধে আছে আজও। এবার রাণা সরকারের প্রযোজনায়, রাজদীপ ঘোষের পরিচালনায় মুক্তি পাবে বাংলা ছবি 'গুন গুন করে মহুয়া'। সেই ছবিতে অঙ্কিতা মল্লিককে দেখা যাবে মহুয়ার আদলে তৈরি চরিত্রে। অঙ্কিতা বাংলা ধারাবাহিকে কাজ করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বড়পর্দায় এটাই তাঁর প্রথম কাজ।

মহুয়াদিদির হাতে কিছু কাটা দাগ ছিল..., ঋতুপর্ণা, নন্দিনী আর কী বললেন

|

Jul 22, 2026 | 11:08 AM

সাল ১৯৮৫। ২২ জুলাই ভোরবেলা ঘোষণা হয়, মহুয়া রায়চৌধুরী আর নেই। বাংলা ছবির দাপুটে অভিনেত্রী। তাঁর জীবনযাপন ঘিরে বহু রহস্য দানা বেঁধে আছে আজও। এবার রাণা সরকারের প্রযোজনায়, রাজদীপ ঘোষের পরিচালনায় মুক্তি পাবে বাংলা ছবি ‘গুন গুন করে মহুয়া’। সেই ছবিতে অঙ্কিতা মল্লিককে দেখা যাবে মহুয়ার আদলে তৈরি চরিত্রে। অঙ্কিতা বাংলা ধারাবাহিকে কাজ করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বড়পর্দায় এটাই তাঁর প্রথম কাজ। ছবির পোস্টারে অঙ্কিতার যে লুক দেখা যাচ্ছে, তা প্রায় তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। বোঝার উপায় নেই, মেকআপ শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুর হাতে বাস্তবের অঙ্কিতা কীভাবে বড়পর্দায় মহুয়া হয়ে উঠেছে, ঠিক কী ম্যাজিক ঘটেছে।

মহুয়া এমন এক অভিনেত্রী ছিলেন, যিনি আজও চর্চিত। বহু নায়কের সঙ্গে তাঁর দুর্দান্ত জুটি। এই মুহূর্তে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বললেন, ”আমার আফসোস, মহুয়া রায়চৌধুরীর সঙ্গে কাজের সুযোগ হয়নি। কিন্তু কাজ দেখে বুঝেছি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানিত হওয়ার মতো তাঁর অভিনয়। একটা বইয়ে পড়ছিলাম, একটা দৃশ্যের কথা, যেখানে পরিচালক তরুণ মজুমদার বলে দিয়েছিলেন, যে চোখে জল টলটল করবে, কিন্তু যেন গড়িয়ে না পড়ে। সেটা পড়ার পর দৃশ্যটা আমি যখন দেখি, গায়ে কাঁটা দেয়। দেখুন, আপনাকে এই কথাটা বলতে গিয়ে, আমার চোখে জল চলে আসছে। আসলে, আমরা অভিনেত্রীদের খুঁত ধরি, তাঁদের জীবনযাপন নিয়ে অনেক সমালোচনা করি, কিন্তু তাঁদের লড়াই, তাঁদের পরিশ্রমকে আজও সম্মান করতে পারি না। মহুয়া রায়চৌধুরীকে নিয়ে যে বায়োপিক হচ্ছে, তাতে আমি খুব খুশি। আমি নিজেও এমন একটা ছবি করতে চাই, যার মাধ্যমে ওঁকে সম্মান দিতে পারব। আমার মনে হয়, একটা স্মৃতিসৌধ যদি করা যায় ওঁর, কারণ সেই সময়ে নায়কদের সঙ্গে একেবারে সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন। আর যে নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন, সেটাই হিট। অন্যধারার ছবি থেকে বাণিজ্যিক ছবিতি, সবেতে নজর কেড়েছেন।”

মহুয়ার মৃত্যুর খবর আসার দিনটা কীরকম ছিল? নন্দিনী পাল, প্রয়াত তাপস পালের স্ত্রী টিভি নাইন বাংলাকে বললেন, ”আমার মনে পড়ে ঝুমাদি (দেবশ্রী রায়ের দিদি) খবরটা নিয়ে ছুটতে-ছুটতে আসে। এটা আমি সেই ভোরের আগের দিনের কথা বলছি। ঝুমাদি, চুমকিদি, তাপস বেরিয়ে যায়। আমি তখন প্রেগনেন্ট। সেই কারণে ওঁরা আর আমাকে নিয়ে যায়নি। আগুন লাগার ঘটনাটা হওয়ার পর তাপস বহুবার গিয়েছে। মহুয়াদিদিকে দেখতে পারত না, বলত এরকমভাবে দেখতে পারবে না। প্রথম ‘দাদার কীর্তি’ ছবিতে তাপসের সঙ্গে শুটিং। তাপস বলেছিল, মহুয়াদিদির কান্নার দৃশ্যটা কাট হয়ে যাওয়ার পর দশ মিনিট ধরে কেঁদেছিল। এতটা একাত্ম হয়ে যেত। আবার গায়ে আগুন লাগার আগে, তাপসের সঙ্গে শেষ দৃশ্য করেছে। ফোনে সংলাপ বলছে, ‘আমি ভালো নেই’। কীরকম কাকতালীয়!

আমি মহুয়াদিদি বলে ডাকতাম। আমার বিয়েতে আসতে পারেনি। ম্যাজেন্ডা রঙের বেনারসি উপহার দিয়েছিল আমাকে, সেই বেনারসি আজও রাখা আছে। একবার আউটডোরে তাপসের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তখন দিদি হিসাবে তাপসকে চিঠি লিখেছিল। সেটাও আমার কাছে আছে। আমার টুয়েলভ পাস করেই বিয়ে হয়েছে। জিজ্ঞাসা করে ফেলেছিলাম, ‘মহুয়াদিদি তোমার হাতে এরকম কাটা দাগ কেন?’ মহুয়াদিদি বলেছিল, ‘তুমি বড় হও। তোমাকে সব বুঝিয়ে বলব।’ একটা ধারণা আছে, মহুয়াদিদি উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করত, আমার সেটা মনে হয়নি কখনও, তবে খুব অভিমানী ছিল…”। নন্দিনীর মতে, মহুয়ার ব্যক্তিত্ব ঠিক কেমন, তার একটা আভাস ছবিতে পাওয়া গেলেও, ভালো হয়।

কাজ থেকে ব্যক্তিগত জীবন, অভিনেত্রীর জীবন যেন চুম্বক। এই বছর মুক্তি পাবে ‘গুন গুন করে মহুয়া’। ছবি দেখার অপেক্ষায় মহুয়ার অনুরাগীরা।

 

 

Follow Us