
বলিউডের চেনা সমীকরণটা ঠিক কেমন? পঞ্চাশ পেরনো সুপারস্টার পর্দায় রোম্যান্স করেন তাঁর অর্ধেক বয়সের নায়িকার সঙ্গে। আর সেই সুপারস্টারের চেয়ে বয়সে ছোট হয়েও পর্দায় তাঁর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে হয় অভিনেত্রীদের! সলমন খানের সুপারহিট ‘ভারত’ ছবিতে ঠিক এমনটাই ঘটেছিল সোনালী কুলকার্নির সঙ্গে। ভাইজানের চেয়ে বয়সে ছোট হয়েও পর্দায় তিনি হয়েছিলেন সলমনের মা। তা নিয়ে কি সোনালীর মনে কোনও আক্ষেপ বা ক্ষোভ রয়েছে? অনেকেই ভাবতে পারেন, হয়তো রয়েছে। কিন্তু বাস্তবটা একেবারে অন্যরকম। সোনালী মনে করেন, বলিউড এখন আর সেই পুরনো ছকে বাঁধা নেই। সিনেমা জগত এখন অনেক পরিণত। আর এই প্রসঙ্গেই এক সাক্ষাৎকারে আমির খান এবং সইফ আলি খানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন অভিনেত্রী।
একটা সময় বলিউডের অলিখিত নিয়মই ছিল, নায়িকারা বিয়ের পিঁড়িতে বসা মানেই তাঁদের কেরিয়ার শেষ! বিয়ের পর তাঁদের আর লিড রোলে বা নায়িকার চরিত্রে দেখা যেত না। কিন্তু সেই দিন যে চিরতরে বদলে গিয়েছে, তা স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন সোনালী। তাঁর কথায়, “আজকাল আর সেই পুরনো কথাগুলো শোনা যায় না। দর্শকরা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, হিরোদের মতো হিরোইনরাও অনায়াসে বিয়ে করতে পারেন। তাঁদেরও সংসার থাকতে পারে, সন্তান থাকতে পারে। এখন অভিনেতা বা অভিনেত্রী, সকলেই নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে চান। শুধু ‘হিরো’ বা চিরতরুণ হয়ে থাকার সংকীর্ণ মানসিকতা এখন আর কারও নেই।”
এরপরই নিজের ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবির সহ-অভিনেতা আমির খানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন সোনালী। ‘দঙ্গল’ ছবিতে আমিরের রূপদান ও অভিনয় দেখে রীতিমতো মুগ্ধ তিনি। আমিরের সাহসের তারিফ করে সোনালী বলেন, “আমির এমন একজন সুপারস্টার, যাঁর পোস্টার দেখে আজও মেয়েরা পাগল হয়। ওঁকে বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে যায়! সেই মানুষটা যখন কোনও রকম প্রস্থেটিক মেকআপ ছাড়াই ‘দঙ্গল’ ছবিতে তিন-চারটি মেয়ের বয়স্ক বাবার চরিত্রে পর্দায় হাজির হন, তখন তিনি সত্যিই আমার চোখে আসল হিরো। বয়সকে বিন্দুমাত্র ভয় না পেয়ে আমির নিজেকে ভেঙেছেন। এটা মুখের কথা নয়!”
শুধু আমির নন, সইফ আলি খানের উদাহরণও টেনেছেন সোনালী। তাঁর মতে, সইফ হলেন ঠিক পুরনো ওয়াইনের মতো। বয়স যত বাড়ছে, তিনি যেন অভিনয়ে ততই ধারালো হচ্ছেন। পর্দায় কমবয়সী সাজার জন্য কোনও মিথ্যে প্রতিযোগিতায় নামেননি ছোটে নবাব। বরং বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানানসই ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্র বেছে নিচ্ছেন তিনি।