
জনপ্রিয় হরিয়ানভি গায়ক ও ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ান (Ankit Baliyan) তখনও হয়তো ভাবতেই পারেননি, জিম থেকে বেরোনোর এই মুহূর্তটাই তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত হতে চলেছে। ঘড়িতে তখন সন্ধ্যে সাতটা। রোজকার মতোই উত্তরপ্রদেশের শামলির কোতোয়ালি এলাকায় জিম সেরে নিজের স্করপিও গাড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই সন্ধ্যের অন্ধকার চিরে পরপর চলতে শুরু করে গুলি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ৩২ বছরের এই শিল্পী।
কী বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, জিমের ঠিক বাইরেই আগে থেকে লুকিয়ে অপেক্ষা করছিল চারজন বন্দুকধারি। অঙ্কিত বাইরে আসতেই তাঁকে ঘিরে ধরে তারা। একপাশে দেওয়াল থাকায় বাঁচার জন্য অঙ্কিত গাড়ির পাশের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢোকার শেষ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রেহাই মেলেনি। আততায়ীদের একজন গাড়ির দরজা জোর করে টেনে খুলে একদম সামনাসামনি গুলি চালাতে থাকে।
সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ রাউন্ড গুলি চলে সেখানে। পাঁচটি বুলেট সরাসরি অঙ্কিতের মাথায় ও পেটে গিয়ে লাগে। তিনটে গুলি লাগে গাড়ির সামনের কাচে। ঘটনার পরেই আততায়ীরা এলাকা ছেড়ে পায়ে হেঁটে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শামলিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। দিল্লি-মুজফ্ফরনগর রাজ্য সড়ক আটকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অঙ্কিতের পরিবার ও তাঁর অনুগামীরা। রাস্তা আটকে চলে বিক্ষোভ। এর মাঝেই তৈরি হয় এক মর্মান্তিক দৃশ্য। রাস্তার ওপর ছেলের দেহ কোলে নিয়ে বসে মা ডুকরে কেঁদে ওঠেন, জড়ো হওয়া ভিড়কে হাতজোড় করে বলতে থাকেন, “তোমরা কেউ চিৎকার কোরো না, আমার ছেলে এখন ঘুমোচ্ছে।”
বান্তিখেরা গ্রামের ছেলে অঙ্কিত সোশাল মিডিয়ায় অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর গাওয়া ‘ভরি কোর্ট মেঁ গোলি মারেঙ্গে মেরি জান’ গানটি ইন্টারনেটে দারুণ হিট করেছিল। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি স্থানীয় জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
মেরঠ জোনের পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। শামলির পুলিশ সুপার এনপি সিং জানিয়েছেন, হামলাকারীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। জিম এবং আশপাশের রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরনো কোনও শত্রুতা বা হরিয়ানার কোনও যোগসূত্র আছে কি না, পুলিশ সব দিক থেকেই তদন্ত চালাচ্ছে।