বাবা বিয়ে করলেন সেই আন্টিটাকেই, যত্রতত্র আদুরে ছবি; সব দেখে কী বলল কাঞ্চনের পুত্র ওশ?
Kanchan Mullick's Son: ছোট্ট ছেলেটার এখন ১০ বছর বয়স হয়ে গিয়েছে। বয়ঃসন্ধিতে পড়ার বাকি আর হাতে মাত্র ৩টে বছর। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কিছুই চাপা থাকে না, তাই ভ্য়ালেন্টাইন্স ডে, প্রেমদিবস ও সে জেনে গিয়েছে খানিকটা। এই ছোট্ট ছেলেটার ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও একটু পরিণত। ছোট বয়সে যে সন্তান বাবা-মায়ের মধ্যে কলহ দেখে বড় হয়, দেখেছে বাবার জীবনে অন্য একজন আন্টি এসে গিয়েছে। সেই আন্টির সঙ্গে বাবার বিয়ের আদুরে ছবি দেখে কী বলল সে?

২০২০ সালের লকডাউনের সময়। ছোট্ট ছেলেটার বয়স তখন ৫-৬ হবে। দেখল, বাবা-মা এবং এক ‘আন্টি’র মধ্যে অসম্ভব ঝামেলা চলছে। মা ধরে ফেলেছে বাবার সঙ্গে সেই আন্টির সম্পর্ক স্রেফ সহকর্মীর নয়, স্রেফ বন্ধুত্বের নয়। ববং, তার চেয়ে একটু বেশিই। সেই বালক দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে দেখল বাবা-মা এবং সেই আন্টির মধ্যে ত্রিকোণ ঝামেলা দিনে-দিনে বাড়ছে। প্রেস-মিডিয়া হচ্ছে। মা বলছে তাঁর বক্তব্য, বাবা বলছে তাঁর কথা এবং সেই তৃতীয় ব্যক্তি আন্টিটাও কী সব যেন বলছে। মোদ্দা কথা, সেই ছোট্ট ছেলেটা বুঝল, ভাঙন ধরে গিয়েছে। তাঁর সঙ্গে বাবা-মায়ের সুখের ছবি থেকে ধীরে ধীরে মুছে যাবেন বাবাই। পিতার থেকে বাঁধন আলগা করতে শুরু করল সে। কাট টু, ২০২৪ সাল। বছর শুরু হতেই মা পেয়ে গেল বাবার থেকে ডিভোর্স। ১০ জানুয়ারি, আইনিভাবে ছাড়াছাড়া হল তাঁদের। এখানেই ইতি নয়। ৩৪ দিন কাটতে না কাটতেই ছোট্ট ছেলেটা জানতে পারল বাবা সেই আন্টিটাকেই রেজিস্ট্রি বিয়ে করেছে। তাও আবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে। ছোট্ট ছেলেটার এখন ১০ বছর বয়স হয়ে গিয়েছে। বয়ঃসন্ধিতে পড়ার বাকি আর হাতে মাত্র ৩টে বছর। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কিছুই চাপা থাকে না, তাই ভ্য়ালেন্টাইন্স ডে, প্রেমদিবস ও সে জেনে গিয়েছে খানিকটা। এই ছোট্ট ছেলেটার ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও একটু পরিণত। ছোট বয়সে যে সন্তান বাবা-মায়ের মধ্যে কলহ দেখে বড় হয়, সে যেন অনেক তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যায়। অল্প বয়সেই বুঝে যায় দুনিয়ার কাঠিন্য়।
এবার আসা যাক এই ছেলেটির পরিচয়ে। সে অভিনেতা-বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের একমাত্র পুত্র ওশ। কাঞ্চন তিনবার বিয়ে করেছেন। সদ্য বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজকে। দ্বিতীয় বিবাহিতা স্ত্রী অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং কাঞ্চনের একমাত্র সন্তান ওশ। যে ওশের সম্পর্কে শ্রীময়ীর পরিবার ‘সহমর্মিতা’ পোষণ করে। যে ওশ গোটা বিষয়টায় কেবলই দর্শক। যে ওশ বাবা কাঞ্চন মল্লিক এবং মা পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিয়ের সময় কেবল একটাই অনুরোধ করেছিল (পিঙ্কির বক্তব্য অনুযায়ী), “মা দেখো, আমার কাস্টডি যেন তুমি পাও।” যে ওশের কাস্টডি চাননি কাঞ্চন মল্লিক। নিজে থেকেই এড়িয়ে গিয়েছেন। ছেলের দায়িত্ব নেননি কেন প্রশ্ন করায় TV9 বাংলাকে কাঞ্চন বলেছিলেন, “সেটা আমার ছেলের স্কুলে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে ভাল হয়।”
যাই হোক, ১৪ ফেব্রুয়ারিতে বাবা কাঞ্চন মল্লিকের এবং সেই আন্টি শ্রীময়ী চট্টরাজের রেজিস্ট্রি বিয়ের ছবি, বাবার আইবুড়ো ভাত, মেহেন্দি, সঙ্গীত, গায়ে হলুদ, সামাজিক বিয়ে, ভাত কাপড়, বাসর রাত, রিসেপশন… সব… সবের ছবি দেখেছে ওশ ড্যাপ-ড্যাপ করে। এবং মা পিঙ্কির কাছে কাছে অল্প কথায় বিরাট বড় কথা বলে ফেলেছে, “মা, বাবাকে ব্লেস করো। আশীর্বাদ করো। বাবা যেন এই আন্টিটার সঙ্গে ভাল থাকে।” কত বড় মনের পরিচয়! যা বড়রা মেনে নিতে পারেন না, ছোটরা তা আনায়াসেই বলে দিতে পারে। লেট গো করে দিতে পারে। ক্ষমাই পৃথিবীর ধর্ম, তা শিখিয়ে দিতে পারে।
বুদ্ধিজ়িমে বিশ্বাসী ওশ মায়ের সঙ্গে প্রতিদিন মেডিটেশন করে। জীবনের সমস্ত নেটিবাচকতাকে যাতে দূরে সরিয়ে রেখে এগিয়ে যেতে পারে, সেদিকে নজর দেয় বেশি করে। তাই সে অনেক আগেই নাকি বাবাকে ‘ক্ষমা’ করে দিতে পেরেছে। এবং মাকে জোর করে বলেছে, “মা, দেখবে তোমার কাছেই যেন আমার কাস্টডি আসে।” ওইটুকু ছেলে কি নিজেই দূরে ঠেলে সরিয়ে দিল না বাবাকে? আর কাঞ্চন, তিনি TV9 বাংলাকে বলেছিলেন, “ওশের ১৮ বছর হলে ওর সঙ্গে কথা বলব।” ওশ তখন আর কথা বলবে কি? প্রশ্ন সেখানেই…
