
বলিউডের ইতিহাসে ২০০৮ সালের ‘গজনি’ ছবিটির গুরুত্ব কতটা, তা সিনেমা প্রেমীদের আলাদা করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। প্রথম ভারতীয় ছবি হিসেবে ১০০ কোটির ক্লাবে পা রেখে ইতিহাস গড়েছিল এই ছবি। কিন্তু জানেন কি, আমির খান প্রথমে এই ছবিটা করতেই চাননি! পরিচালক এ আর আরুমুগাদাসের এই হিন্দি রিমেক করার পেছনে আসল কারিগর ছিলেন অন্য একজন। তিনি আর কেউ নন, ছবির হাড়হিম করা ভিলেন, প্রয়াত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত।
প্রদীপ রাওয়াত কেবল হিন্দি ‘গজনি’তেই অভিনয় করেননি, তামিল ও তেলুগু সংস্করণেও খলনায়কের ভূমিকায় মাতিয়েছিলেন। এক পুরনো সাক্ষাৎকারে তিনি খোলসা করেছিলেন সেই অজানা গল্প। এস এস রাজামৌলির এক ছবির সেটে প্রথমবার প্রদীপের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন পরিচালক এ আর আরুমুগাদাস। হিন্দি রিমেকের প্রধান চরিত্রের জন্য পরিচালক প্রথমে সলমন খানের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু প্রদীপ জানতেন, সলমনের মেজাজ কিছুটা চড়া, অন্যদিকে নতুন পরিচালক আরুমুগাদাস হিন্দি বা ইংরেজি কোনও ভাষাতেই পারদর্শী ছিলেন না। ফলে তাঁদের মধ্যে কাজের সমন্বয়ে সমস্যা হতে পারে ভেবে প্রদীপ নিজেই আমিরের নাম প্রস্তাব করেন। প্রদীপের সঙ্গে আমিরের সম্পর্ক ছিল প্রায় ২৫ বছরের পুরনো। ‘লাগান’ ছবিতেও একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা।
তবে আমিরকে রাজি করানো মোটেও সহজ কাজ ছিল না। আমিরকে প্রথমে আসল উদ্দেশ্য না জানিয়ে স্রেফ তামিল ছবিটি দেখার জন্য ডেকেছিলেন প্রদীপ। কিন্তু প্রখর বুদ্ধিমান আমির বিষয়টা বুঝতে পেরে দীর্ঘদিন ধরে ‘আজ করব, কাল ভাবব’ বলে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রদীপের বারবার অনুরোধ আর নাছোড়বান্দা মনোভাবের কাছে হার মানতে হয় আমিরকে। প্রদীপকে সরাসরি ‘না’ বলতে না পেরেই ছবিতে সই করে দিয়েছিলেন বলিউডের মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট। আর তারপর যা ঘটেছিল, তা তো ইতিহাস!
‘সারফরোশ’ থেকে ‘গজনি’—পর্দার এই শক্তিমান খলনায়ক প্রদীপ রাওয়াত আর আমাদের মধ্যে নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর মুম্বইয়ের হাসপাতালে ৭৪ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তবে পর্দায় রেখে গিয়েছেন তাঁর অনবদ্য সব কাজ। বিশেষ করে আমির খানকে ‘গজনি’ করার জন্য তাঁর রাজি করানোর এই গল্পটি বিনোদন জগতে চিরকাল রঙিন হয়ে থাকবে।