
বলিউড অভিনেত্রী হুমা কুরেশি (Huma Qureshi) এবার সরাসরি তোপ দাগলেন রুপোলি পর্দার এক চেনা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে কেন মহিলা ঘাতকদের সবসময় অত্যন্ত টাইট-ফিটিং পোশাকে এবং চড়া যৌন আবেদনময়ী হিসেবে তুলে ধরা হবে? এই প্রশ্ন তুলেই রুপোলি জগতের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, পর্দায় কোনও নারী চরিত্রকে শক্তিশালী বা বিপজ্জনক দেখাতে তাঁকে ‘হাইপার-সেক্সুয়ালাইজড’ করার কোনও প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে হুমা কুরেশি অভিনীত ডার্ক কমেডি থ্রিলার ছবি ‘বেবি দো ডাই দো’ (Baby Do Die Do)। এই ছবিতে একজন ‘বধির ও মূক’ সুপারি কিলারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি, যাঁর চরিত্রের নাম ‘বেবি’। বলিউডের চেনা গ্ল্যামারাস ঘাতকদের থেকে এই চরিত্রটি এক্কেবারে আলাদা। পর্দায় তাঁকে দেখা গিয়েছে সাধারণ এক ভারতীয় নারীর সাজে, যাকে সাধারণ ভিড়ে দেখলে আলাদা করে চেনা মুশকিল।
সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়েই ইন্ডাস্ট্রির খামতিগুলো সামনে এনেছেন হুমা। তিনি বলেন, ‘‘বেবি ভীষণ সাধারণ দেখতে এক নারী, অথচ সে এক মারাত্মক খুনি। এই বৈপরীত্যই গল্পটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আমরা খুব চেনা এবং বাস্তবের মাটির কাছাকাছি একটা চরিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলাম। বেবি এমন কেউ, যাকে মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেনে দেখলে আপনি হয়তো ঘুরেও তাকাবেন না।’’
এর পরেই বলিউডে নারী অ্যাকশন চরিত্রগুলোর রূপায়ণের তীব্র সমালোচনা করেন অভিনেত্রী। হুমার মতে, সিনেমায় মহিলা খুনিদের চরিত্রায়নে সবসময় একটা চড়া গ্ল্যামার যোগ করা হয়। গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকা পোশাক পরিয়ে তাঁদের শরীরী আবেদনকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর এক অদ্ভুত প্রবণতা রয়েছে। ভাবখানা এমন যে, ওই ধরনের আঁটসাঁট পোশাক না পরলে যেন কেউ ঘাতক হতেই পারে না! হুমার মতে, এই পুরো চিন্তাভাবনাটাই আসলে পুরুষতন্ত্রের ফসল।
হুমা মনে করেন, পর্দায় নারীদের এই রূপায়ণ এবার বন্ধ হওয়া দরকার। একজন নারী তাঁর সাধারণ পোশাকে থেকেও যে কতটা ভয়ঙ্কর ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন, এই ছবির মাধ্যমে সেটাই প্রমাণ করতে চেয়েছেন তিনি। যদিও বলিউডে চিত্রনাট্য লেখার ধরনে ইদানীং কিছু ইতিবাচক বদল আসছে বলে তিনি আশাবাদী, তবে লেখকদের মানসিকতায় আরও বড় পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। গ্ল্যামারের চেনা মোড়ক ভেঙে পরিচালকেরা যাতে মহিলাদের জন্য আরও বাস্তবসম্মত এবং জটিল চরিত্র তৈরিতে এগিয়ে আসেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে সেই বার্তাই জোরালোভাবে দিয়েছেন তিনি।