
রণবীর কাপুর (Ranbir Kapoor) বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেতা হলেও, তিনি কি পর্দায় ‘প্রভু রামচন্দ্র’ হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন? এই প্রশ্ন যখন সিনেপ্রেমীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই সব জল্পনার অবসান ঘটালেন পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি। নয়া দিল্লিতে ‘রামায়ণ’ ছবির একটি অনুষ্ঠানে পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি জানান, কেন রাম ও সীতার চরিত্রের জন্য রণবীর কাপুর আর সাই পল্লবীই তাঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন। নীতেশ বলেন, “একজন শিল্পীর চোখ কখনও মিথ্যে বলে না। আমি রণবীরের চোখে রামচন্দ্রকে আর সাইয়ের চোখে সীতা মাকে দেখতে পেয়েছিলাম। ওদের চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত সততা রয়েছে।”
পর্দায় দেবী সীতার চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সাই পল্লবী জানান, এই চরিত্রটি তিনি নিজে বেছে নেননি, বরং এটি তাঁর কাছে একটি আশীর্বাদের মতো এসেছে। এটি এমন কোনও চরিত্র নয় যা প্ল্যানিং করে বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে পাওয়া যায়। তাঁর মতে, এর পেছনে একটা পুরো টিমের মন ও প্রাণ ঢেলে দেওয়া পরিশ্রম কাজ করেছে।
পর্দায় সীতা হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সাই পল্লবী। সাই পল্লবীর কথায়, “পর্দায় কোনও দেবীর চরিত্রে অভিনয় করা মোটেও সহজ নয়। এর জন্য আমি আলাদা কোনও প্ল্যানিং করিনি। শুটিংয়ের দিনগুলোতে আমি শুধু ধ্যান করতাম আর প্রার্থনা করতাম, ‘সীতা মা, তুমি আমার মাধ্যমে নিজের রূপ ফুটিয়ে তোলো। আমার মাধ্যমে যা কিছু পর্দায় আসুক, তা যেন এই ছবির ভালোর জন্যই হয়’।” এই শ্রদ্ধেয় চরিত্রের পবিত্রতা বজায় রাখতে সাই পল্লবী শুটিং চলাকালীন নিজের চিন্তাভাবনা অত্যন্ত শুদ্ধ, শান্ত ও ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করতেন। তিনি নিজেকে একদম নিরপেক্ষ রেখে নিজের সেরা সংস্করণটি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারিও সাইয়ের এই নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের দারুণ প্রশংসা করেছেন।
অনুষ্ঠানের মূল চমক অবশ্য ছিল অন্য জায়গায়। মঞ্চে যখন লঙ্কেশ চরিত্রাভিনেতা ‘কেজিএফ’ খ্যাত যশ এবং বজরংবলীর ভূমিকায় সানি দেওল এন্ট্রি নেন, তখন করতালিতে ফেটে পড়ে গোটা অডিটোরিয়াম। সানি দেওল তাঁর চরিত্রটিকে বেশ ‘নটখট’ বলে উল্লেখ করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে ছবির দ্বিতীয় পার্টে হনুমানের ভূমিকা আরও বড় হতে চলেছে। এছাড়া লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবে, শূর্পণখার ভূমিকায় রাকুল প্রীত সিং সহ ছবির বাকি কাস্টিংও দারুণ নজর কেড়েছে। এ আর রহমান, হ্যান্স জিমার এবং ঋষভ রিখিরাম শর্মার মেলবন্ধনে তৈরি ছবির মিউজিক যে অন্য মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রযোজক নমিত মালহোত্রা জানান, প্রায় ১০,০০০ মানুষের ১০ বছরের পরিশ্রমের ফসল এই সিনেমা। দুই পার্টে মুক্তি পেতে চলা এই মহাকাব্যের প্রথম ভাগটি ২০২৬-এর দিওয়ালিতে এবং দ্বিতীয় ভাগটি ২০২৭-এর দিওয়ালিতে রূপোলি পর্দায় ঝড় তুলতে আসছে।